ক্ষুদ্র মিছিলেই সরকারের ভেতর কম্পন ,প্রকৃত আওয়ামী লীগ এখনো রাজপথে নামে নি

নিউজ ডেস্ক:: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় চলছে। প্রকৃত আওয়ামী লীগের কোনো বৃহৎ মিছিল এখনো শুরু হয়নি। ঢাকার রাস্তায় যেসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল দেখা যাচ্ছে, সেগুলো আসলে এক একজন নেতার অনুসারীদের দ্বারা সংগঠিত। এরা মূলত স্থানীয় প্রভাব ধরে রাখার জন্য নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। কিন্তু এসব সামান্য সমাবেশই সরকারের ভেতরে কম্পন সৃষ্টি করেছে।

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা এখনো ঐক্যবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশ পেলেই তারা সুসংগঠিতভাবে রাজপথে নামবে। ইতিমধ্যে প্রতিটি বিভাগ থেকে প্রায় এক লাখ করে নেতা-কর্মী ঢাকায় এসে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ এবং শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে মাঠে নামার জন্য বৃহৎ আকারে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ইউনিয়ন ও উপজেলা স্তরে মিছিল শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্তরের নেতার নেতৃত্বে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিলগুলো রাজধানীর রাস্তায় প্রতিধ্বনি তুলছে। ইতিহাস সাক্ষী, ছোট মিছিল থেকেই বড় আন্দোলনের সূচনা হয়, আর আওয়ামী লীগের মতো জনভিত্তিক শক্তি একবার রাজপথে নামলে তার ধাক্কা সামলানো কোনো সরকারের পক্ষেই সহজ নয়।

*ঐতিহাসিক রেফারেন্স*

রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে ক্ষুদ্র মিছিল থেকেই বৃহৎ আন্দোলনের জন্ম হয়েছে। আওয়ামী লীগের ইতিহাসও তার প্রমাণ

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন : ঢাকায় ছাত্রদের ছোট ছোট মিছিলই রূপ নিয়েছিল সর্বজনীন ভাষা আন্দোলনে, যার ফলে বাংলার মানুষ ভাষার অধিকার অর্জন করে।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান : শেখ মুজিবের মুক্তির দাবিতে প্রথমে ক্ষুদ্র সমাবেশ হলেও তা পরবর্তীতে রূপ নেয় আইয়ুববিরোধী ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি : ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর আহ্বানের পর গ্রাম-উপজেলা পর্যায়ের ছোট ছোট মিছিলই মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে রূপান্তরিত হয়।

১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন : ছোট ছোট ছাত্র-জনতার মিছিল থেকেই এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাকে পতনের দিকে ঠেলে দেয়।

২০০৭ সালের এক-এগারো পরবর্তী আন্দোলন : শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে ছোট ছোট মিছিল থেকেই ঢাকায় বিশাল জনসমাবেশ তৈরি হয়, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে।

আজকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিলগুলো তাই কেবল প্রতীকী নয়, বরং ভবিষ্যৎ বৃহৎ গণআন্দোলনের অগ্রদূত। সরকারের ভেতর যে কম্পন শুরু হয়েছে, তা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে শেখ হাসিনার নির্দেশ পেলেই আওয়ামী লীগের লাখো নেতা-কর্মী রাজপথে নেমে আবারও ইতিহাস রচনা করবে।

Tag :

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

Glorifying War Criminals in an Illegal Parliament During the Month of Independence: A Shameful Chapter in History and an Ultimate Act of National Betrayal

ক্ষুদ্র মিছিলেই সরকারের ভেতর কম্পন ,প্রকৃত আওয়ামী লীগ এখনো রাজপথে নামে নি

Update Time : 12:08:38 pm, Monday, 22 September 2025

নিউজ ডেস্ক:: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় চলছে। প্রকৃত আওয়ামী লীগের কোনো বৃহৎ মিছিল এখনো শুরু হয়নি। ঢাকার রাস্তায় যেসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল দেখা যাচ্ছে, সেগুলো আসলে এক একজন নেতার অনুসারীদের দ্বারা সংগঠিত। এরা মূলত স্থানীয় প্রভাব ধরে রাখার জন্য নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। কিন্তু এসব সামান্য সমাবেশই সরকারের ভেতরে কম্পন সৃষ্টি করেছে।

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা এখনো ঐক্যবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশ পেলেই তারা সুসংগঠিতভাবে রাজপথে নামবে। ইতিমধ্যে প্রতিটি বিভাগ থেকে প্রায় এক লাখ করে নেতা-কর্মী ঢাকায় এসে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ এবং শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে মাঠে নামার জন্য বৃহৎ আকারে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ইউনিয়ন ও উপজেলা স্তরে মিছিল শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্তরের নেতার নেতৃত্বে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিলগুলো রাজধানীর রাস্তায় প্রতিধ্বনি তুলছে। ইতিহাস সাক্ষী, ছোট মিছিল থেকেই বড় আন্দোলনের সূচনা হয়, আর আওয়ামী লীগের মতো জনভিত্তিক শক্তি একবার রাজপথে নামলে তার ধাক্কা সামলানো কোনো সরকারের পক্ষেই সহজ নয়।

*ঐতিহাসিক রেফারেন্স*

রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে ক্ষুদ্র মিছিল থেকেই বৃহৎ আন্দোলনের জন্ম হয়েছে। আওয়ামী লীগের ইতিহাসও তার প্রমাণ

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন : ঢাকায় ছাত্রদের ছোট ছোট মিছিলই রূপ নিয়েছিল সর্বজনীন ভাষা আন্দোলনে, যার ফলে বাংলার মানুষ ভাষার অধিকার অর্জন করে।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান : শেখ মুজিবের মুক্তির দাবিতে প্রথমে ক্ষুদ্র সমাবেশ হলেও তা পরবর্তীতে রূপ নেয় আইয়ুববিরোধী ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি : ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর আহ্বানের পর গ্রাম-উপজেলা পর্যায়ের ছোট ছোট মিছিলই মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে রূপান্তরিত হয়।

১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন : ছোট ছোট ছাত্র-জনতার মিছিল থেকেই এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাকে পতনের দিকে ঠেলে দেয়।

২০০৭ সালের এক-এগারো পরবর্তী আন্দোলন : শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে ছোট ছোট মিছিল থেকেই ঢাকায় বিশাল জনসমাবেশ তৈরি হয়, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে।

আজকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিলগুলো তাই কেবল প্রতীকী নয়, বরং ভবিষ্যৎ বৃহৎ গণআন্দোলনের অগ্রদূত। সরকারের ভেতর যে কম্পন শুরু হয়েছে, তা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে শেখ হাসিনার নির্দেশ পেলেই আওয়ামী লীগের লাখো নেতা-কর্মী রাজপথে নেমে আবারও ইতিহাস রচনা করবে।