তারেক রহমানের সরকার বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিষিদ্ধ করে, স্বাধীনতাকে অবমূল্যায়ন করেছেন,

দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালে যে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল, তার ভিত্তি ছিল বাঙালির জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার। এই আদর্শের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার পথে ঐক্যবদ্ধ করেছিল।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কিছু শব্দ আছে, যা শুধু বাক্য নয়—একটি জাতির আত্মা। ১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে উচ্চারণ করেছিলেন সেই অমর আহ্বান—
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
এই আহ্বানই ছিল বাঙালি জাতির জাগরণের ডাক, যা পরিণত হয়েছিল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ। সেই ঐতিহাসিক ভাষণ, যা আমরা জানি ৭ মার্চের ভাষণ নামে, কোটি মানুষের মনে স্বাধীনতার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন—
“আর দাবায়ে রাখতে পারবা না।”

এই কথার মধ্যেই ছিল বাঙালির অদম্য শক্তি, আত্মমর্যাদা এবং স্বাধীনতার সংকল্প।
তাই আজও যখন স্বাধীনতার চেতনা, গণতন্ত্র ও ন্যায়ের প্রশ্ন ওঠে, সেই কণ্ঠ আবার যেন প্রতিধ্বনিত হয়, অন্যায় ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস দেয়।
তবু স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় বিতর্ক বারবার সামনে আসে। প্রশ্ন ওঠে দেশ কি সত্যিই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে এগোচ্ছে, নাকি পুরোনো পাকিস্তানি রাজনৈতিক কৌশলের ছায়া এখনো রয়ে গেছে?
সমালোচকদের মতে, তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই সেই প্রাচীন ফর্মুলা কার্যকর করেছেন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিষিদ্ধ । এর ফলে বঙ্গবন্ধুর ভাষণগুলোকে গণমাধ্যম এবং জনসভা থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা দেখা যায়।
বিশেষ করে ৭ মার্চের ভাষণকে নিষিদ্ধ করার মতো সিদ্ধান্তকে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে অবমাননা হিসেবে দেখেন।
এটি শুধু একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ নয় বরং একটি জাতির আত্মমর্যাদা ও ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাও বটে।

এমন প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীর বিভাজন এবং বিতর্কের জন্ম দেয়।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইতিহাসের সত্যকে সম্মান করা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যেন দেশের স্বাধীনতার ভিত্তিকে দুর্বল না করে। কারণ যে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, সেই রাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সবসময়ই কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে থাকবে।
ইতিহাসকে ভুলে যাওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ প্রতীককে অবমূল্যায়ন করা মানেই দেশের রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও জাতীয় ঐক্যের ক্ষতি।
আজও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এবং তার আহ্বান বাঙালির মনে অমর। এই আহ্বান শেখায় যে সংগ্রাম একবার স্বাধীনতার জন্য হয়েছিল, তার চেতনা এখনও জীবিত এবং যে কোনও সময় দেশ ও জাতিকে নতুন দৃষ্টিতে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

Tag :

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

Glorifying War Criminals in an Illegal Parliament During the Month of Independence: A Shameful Chapter in History and an Ultimate Act of National Betrayal

তারেক রহমানের সরকার বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিষিদ্ধ করে, স্বাধীনতাকে অবমূল্যায়ন করেছেন,

Update Time : 05:18:29 pm, Saturday, 7 March 2026

দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালে যে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল, তার ভিত্তি ছিল বাঙালির জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার। এই আদর্শের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার পথে ঐক্যবদ্ধ করেছিল।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কিছু শব্দ আছে, যা শুধু বাক্য নয়—একটি জাতির আত্মা। ১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে উচ্চারণ করেছিলেন সেই অমর আহ্বান—
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
এই আহ্বানই ছিল বাঙালি জাতির জাগরণের ডাক, যা পরিণত হয়েছিল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ। সেই ঐতিহাসিক ভাষণ, যা আমরা জানি ৭ মার্চের ভাষণ নামে, কোটি মানুষের মনে স্বাধীনতার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন—
“আর দাবায়ে রাখতে পারবা না।”

এই কথার মধ্যেই ছিল বাঙালির অদম্য শক্তি, আত্মমর্যাদা এবং স্বাধীনতার সংকল্প।
তাই আজও যখন স্বাধীনতার চেতনা, গণতন্ত্র ও ন্যায়ের প্রশ্ন ওঠে, সেই কণ্ঠ আবার যেন প্রতিধ্বনিত হয়, অন্যায় ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস দেয়।
তবু স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় বিতর্ক বারবার সামনে আসে। প্রশ্ন ওঠে দেশ কি সত্যিই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে এগোচ্ছে, নাকি পুরোনো পাকিস্তানি রাজনৈতিক কৌশলের ছায়া এখনো রয়ে গেছে?
সমালোচকদের মতে, তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই সেই প্রাচীন ফর্মুলা কার্যকর করেছেন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিষিদ্ধ । এর ফলে বঙ্গবন্ধুর ভাষণগুলোকে গণমাধ্যম এবং জনসভা থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা দেখা যায়।
বিশেষ করে ৭ মার্চের ভাষণকে নিষিদ্ধ করার মতো সিদ্ধান্তকে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে অবমাননা হিসেবে দেখেন।
এটি শুধু একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ নয় বরং একটি জাতির আত্মমর্যাদা ও ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাও বটে।

এমন প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীর বিভাজন এবং বিতর্কের জন্ম দেয়।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইতিহাসের সত্যকে সম্মান করা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যেন দেশের স্বাধীনতার ভিত্তিকে দুর্বল না করে। কারণ যে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, সেই রাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সবসময়ই কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে থাকবে।
ইতিহাসকে ভুলে যাওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ প্রতীককে অবমূল্যায়ন করা মানেই দেশের রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও জাতীয় ঐক্যের ক্ষতি।
আজও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এবং তার আহ্বান বাঙালির মনে অমর। এই আহ্বান শেখায় যে সংগ্রাম একবার স্বাধীনতার জন্য হয়েছিল, তার চেতনা এখনও জীবিত এবং যে কোনও সময় দেশ ও জাতিকে নতুন দৃষ্টিতে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।