জনগণের ট্যাক্স যাচ্ছে দুর্নীতির পেটে, উন্নয়ন থাকছে অর্ধেক পথে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আজ ঘুষ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজীর ঘেরাটোপে বন্দী। যে ট্যাক্সের টাকা দিয়ে দেশের মানুষের জন্য টেকসই উন্নয়ন হওয়ার কথা, সেই টাকাই চলে যাচ্ছে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও দখলদার গোষ্ঠীর পেটে। ফলাফল—অর্ধেকেরও কম অর্থ দিয়ে চলে প্রকৃত কাজ, আর তার মান হয় নড়বড়ে, অস্থায়ী ও অপ্রতুল।

সরকারি প্রকল্প নিতে গেলেই শুরুতে দিতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ। হিসাব অনুযায়ী, ১০০ টাকার প্রকল্পে কাজ পেতে ১৫% খরচ হয় দপ্তরঘুষে। এরপর কাজ শুরু হলে সামনে আসে রাজনৈতিক দলের নানা পর্যায়ের নেতা ও কিশোর গ্যাং চাঁদা না দিলে ইটও গাঁথা যায় না। এই ধাপে খরচ হয় আরও ২০%। কাজ শেষ হলেও মুক্তি মেলে না; বিল তুলতে গিয়েও বাধ্যতামূলকভাবে গুনতে হয় অন্তত ৫% কমিশন।

এদিকে ট্যাক্স–ভ্যাট বাবদ কেটে নেওয়া হয় ১২% এবং ঠিকাদারের গড় লাভ থাকে ১৫%। সব মিলিয়ে ৭০% টাকা খরচ হয়ে যায় ঘুষ, কমিশন, ট্যাক্স ও চাঁদাবাজীতে। বাকি থাকে মাত্র ৩০%। এ অর্থে যে কাজ হয়, তা কোনোভাবেই মানসম্মত হয় না। সড়ক, ভবন, ড্রেনেজ কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো তাই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়ে।

অতীত সরকারের সময়ে চিত্র ছিল ভিন্ন। বড় প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য বা চাঁদাবাজীর কোনো দৌরাত্ম্য ছিল না। ছোট প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৫% অফিস খরচ, ট্যাক্স–ভ্যাট মিলিয়ে ১০–১২% এবং ঠিকাদারের ১০% লাভসহ সর্বমোট খরচ হতো ২৫%। বাকি ৭৫% টাকা যেত সরাসরি কাজে, যার মান ছিল টেকসই ও স্থায়ী।

কিন্তু বর্তমানে উন্নয়ন খাত যেন পরিণত হয়েছে শোষণের যন্ত্রে। জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকা ভেসে যাচ্ছে দুর্নীতির পেটে, আর মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হচ্ছে ভাঙাচোরা অবকাঠামো ও অপচয়ের স্তূপ।

এভাবে চলতে থাকলে উন্নয়ন আর হবে না বাস্তব পরিবর্তনের হাতিয়ার বরং কাগজ–কলমের প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ থাকবে। দুর্নীতির লাগাম টানা না গেলে “অর্ধেক পথে থেমে থাকা উন্নয়ন”ই হবে বাংলাদেশের ভাগ্য।

Tag :

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

Glorifying War Criminals in an Illegal Parliament During the Month of Independence: A Shameful Chapter in History and an Ultimate Act of National Betrayal

জনগণের ট্যাক্স যাচ্ছে দুর্নীতির পেটে, উন্নয়ন থাকছে অর্ধেক পথে

Update Time : 02:36:35 pm, Monday, 22 September 2025

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আজ ঘুষ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজীর ঘেরাটোপে বন্দী। যে ট্যাক্সের টাকা দিয়ে দেশের মানুষের জন্য টেকসই উন্নয়ন হওয়ার কথা, সেই টাকাই চলে যাচ্ছে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও দখলদার গোষ্ঠীর পেটে। ফলাফল—অর্ধেকেরও কম অর্থ দিয়ে চলে প্রকৃত কাজ, আর তার মান হয় নড়বড়ে, অস্থায়ী ও অপ্রতুল।

সরকারি প্রকল্প নিতে গেলেই শুরুতে দিতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ। হিসাব অনুযায়ী, ১০০ টাকার প্রকল্পে কাজ পেতে ১৫% খরচ হয় দপ্তরঘুষে। এরপর কাজ শুরু হলে সামনে আসে রাজনৈতিক দলের নানা পর্যায়ের নেতা ও কিশোর গ্যাং চাঁদা না দিলে ইটও গাঁথা যায় না। এই ধাপে খরচ হয় আরও ২০%। কাজ শেষ হলেও মুক্তি মেলে না; বিল তুলতে গিয়েও বাধ্যতামূলকভাবে গুনতে হয় অন্তত ৫% কমিশন।

এদিকে ট্যাক্স–ভ্যাট বাবদ কেটে নেওয়া হয় ১২% এবং ঠিকাদারের গড় লাভ থাকে ১৫%। সব মিলিয়ে ৭০% টাকা খরচ হয়ে যায় ঘুষ, কমিশন, ট্যাক্স ও চাঁদাবাজীতে। বাকি থাকে মাত্র ৩০%। এ অর্থে যে কাজ হয়, তা কোনোভাবেই মানসম্মত হয় না। সড়ক, ভবন, ড্রেনেজ কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো তাই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়ে।

অতীত সরকারের সময়ে চিত্র ছিল ভিন্ন। বড় প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য বা চাঁদাবাজীর কোনো দৌরাত্ম্য ছিল না। ছোট প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৫% অফিস খরচ, ট্যাক্স–ভ্যাট মিলিয়ে ১০–১২% এবং ঠিকাদারের ১০% লাভসহ সর্বমোট খরচ হতো ২৫%। বাকি ৭৫% টাকা যেত সরাসরি কাজে, যার মান ছিল টেকসই ও স্থায়ী।

কিন্তু বর্তমানে উন্নয়ন খাত যেন পরিণত হয়েছে শোষণের যন্ত্রে। জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকা ভেসে যাচ্ছে দুর্নীতির পেটে, আর মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হচ্ছে ভাঙাচোরা অবকাঠামো ও অপচয়ের স্তূপ।

এভাবে চলতে থাকলে উন্নয়ন আর হবে না বাস্তব পরিবর্তনের হাতিয়ার বরং কাগজ–কলমের প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ থাকবে। দুর্নীতির লাগাম টানা না গেলে “অর্ধেক পথে থেমে থাকা উন্নয়ন”ই হবে বাংলাদেশের ভাগ্য।