নিউজ ডেস্ক ::ইসলাম মানবতার ধর্ম। মহান আল্লাহ ইসলামকে পাঠিয়েছেন মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য, যেখানে শান্তি, ন্যায়, সমতা এবং সত্য প্রতিষ্ঠার শিক্ষা নিহিত রয়েছে। ইসলামের মূল শিক্ষা হলো—মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলা, সহনশীলতা বজায় রাখা এবং সবার অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের নাম ভাঙিয়ে এমন এক ভণ্ডামি ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চালিয়ে আসছে, যা ইসলামের মূল দর্শনের সম্পূর্ণ বিপরীত।
জামায়াতের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করেছে যে তাদের লক্ষ্য ধর্ম প্রচার নয়, বরং ধর্মকে আড়াল করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা। এরা কখনো পূজা মণ্ডপে গিয়ে মূর্তির পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, কখনো বাদ্যের তালে নাচানাচি করে মানুষকে উপহাসের খোরাক বানায়, আবার কখনো ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের আচার-অনুষ্ঠানে বাধা দেয়। সুযোগ পেলেই মূর্তি ভেঙে অশান্তি ছড়ায়। এসব কর্মকাণ্ড ইসলামের শিক্ষা নয়, বরং শয়তানি মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
ইসলাম অন্য ধর্মকে সম্মান করতে শেখায়। কোরআনে বলা আছে—“তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আর আমার ধর্ম আমার।” অথচ জামায়াত সেই মহৎ শিক্ষাকে বিকৃত করে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায়। তারা তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করে উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার ফল সমাজে অশান্তি, বিভাজন ও ঘৃণা।
বাংলাদেশ জামায়াতের ইতিহাসও তাদের আসল চেহারা উন্মোচন করে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হয়ে আলবদর ও আলশামস বাহিনী গঠন করেছিল। এরা নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে, মুক্তিকামী জনগণের রক্তে হাত রাঙিয়েছে, এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মতো নৃশংস অপরাধে জড়িয়েছে। স্বাধীনতার পরও তারা সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছে।
আজও জামায়াত সেই একই শয়তানি পথেই এগোচ্ছে। তারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি করছে, তরুণ প্রজন্মের মনে ঘৃণা ও বিভ্রান্তির বীজ বপন করছে। অথচ প্রকৃত ইসলাম শান্তি, সহনশীলতা ও সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলাম কখনো অশান্তি, বিদ্বেষ বা ধ্বংসযজ্ঞ সমর্থন করে না।
আল্লাহ বানিয়েছেন ইসলাম, যা শান্তি ও ন্যায়ের ধর্ম। আর শয়তান বানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াত, যারা ইসলামের মুখোশ পরে শয়তানি রাজনীতি করে সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
কামরুল হাদী 









