বাংলাদেশে অস্থিরতার নেপথ্যে আইএসআই-এর ‘ঢাকা সেল’, লক্ষ্য ভারত—ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দাবি

নিউজ ডেস্ক :: ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর একটি সুপরিকল্পিত অপারেশনের অংশ। গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, “ঢাকা সেল” নামে পরিচিত একটি গোপন ইউনিটের মাধ্যমে এই কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে, যা কয়েক মাস আগে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের ভেতরে গঠন করা হয়।
ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের একটি সফরের পরই এই সেল সক্রিয় হয়। এর মূল দায়িত্ব উগ্রবাদে প্ররোচনা, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া। তবে এই পরিকল্পনার চূড়ান্ত লক্ষ্য কেবল বাংলাদেশ নয়—ভারতকেই কেন্দ্র করে গোটা কৌশল সাজানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তা ছিল একটি পূর্বনির্ধারিত ‘ট্রিগার’। অক্টোবর থেকেই ব্যাপক অস্থিরতার প্রস্তুতি চলছিল এবং বাংলাদেশের ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণাকে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযুক্ত সুযোগ হিসেবে নেওয়া হয়।
ভারতীয় কর্মকর্তারা আরও জানান, এই কৌশলটি শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে পরিচালিত একটি পূর্ববর্তী আইএসআই-সমর্থিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে মিল রয়েছে, যা পরে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) ভেঙে দিতে সক্ষম হয়।
গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা সেলে একজন ব্রিগেডিয়ার, একজন কর্নেল, একাধিক মেজরসহ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি পাকিস্তান বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সেলকে আইএসআই-এর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার লক্ষ্য শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ প্রভাবিত করা—যেখানে জামায়াতে ইসলামীকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই সক্রিয়তার পেছনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের মানসিকতা কাজ করছে। আইএসআই মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে নাজুক, যা প্রভাব বিস্তারের জন্য অনুকূল।
তাৎক্ষণিকভাবে এই তৎপরতার লক্ষ্য হলো দেশে অস্থিরতা বজায় রাখা, নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল আদায় করা অথবা পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে নির্বাচন বিলম্বিত করা।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, বাংলাদেশের অস্থিরতা আসলে বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিকল্পনার অংশ। পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্লিপার সেল সক্রিয় করা, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ বাড়ানো এবং ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করাই আইএসআই-এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য—বিশেষ করে আগামী বছরের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনকে সামনে রেখে।
ভারতীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের উত্তেজনা মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত। হুমকিকে গুরুতর হিসেবে দেখলেও, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে তারা আস্থাশীল বলে জানানো হয়েছে।

Tag :

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

Glorifying War Criminals in an Illegal Parliament During the Month of Independence: A Shameful Chapter in History and an Ultimate Act of National Betrayal

বাংলাদেশে অস্থিরতার নেপথ্যে আইএসআই-এর ‘ঢাকা সেল’, লক্ষ্য ভারত—ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দাবি

Update Time : 09:46:41 am, Sunday, 21 December 2025

নিউজ ডেস্ক :: ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর একটি সুপরিকল্পিত অপারেশনের অংশ। গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, “ঢাকা সেল” নামে পরিচিত একটি গোপন ইউনিটের মাধ্যমে এই কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে, যা কয়েক মাস আগে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের ভেতরে গঠন করা হয়।
ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের একটি সফরের পরই এই সেল সক্রিয় হয়। এর মূল দায়িত্ব উগ্রবাদে প্ররোচনা, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া। তবে এই পরিকল্পনার চূড়ান্ত লক্ষ্য কেবল বাংলাদেশ নয়—ভারতকেই কেন্দ্র করে গোটা কৌশল সাজানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তা ছিল একটি পূর্বনির্ধারিত ‘ট্রিগার’। অক্টোবর থেকেই ব্যাপক অস্থিরতার প্রস্তুতি চলছিল এবং বাংলাদেশের ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণাকে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযুক্ত সুযোগ হিসেবে নেওয়া হয়।
ভারতীয় কর্মকর্তারা আরও জানান, এই কৌশলটি শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে পরিচালিত একটি পূর্ববর্তী আইএসআই-সমর্থিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে মিল রয়েছে, যা পরে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) ভেঙে দিতে সক্ষম হয়।
গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা সেলে একজন ব্রিগেডিয়ার, একজন কর্নেল, একাধিক মেজরসহ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি পাকিস্তান বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সেলকে আইএসআই-এর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার লক্ষ্য শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ প্রভাবিত করা—যেখানে জামায়াতে ইসলামীকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই সক্রিয়তার পেছনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের মানসিকতা কাজ করছে। আইএসআই মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে নাজুক, যা প্রভাব বিস্তারের জন্য অনুকূল।
তাৎক্ষণিকভাবে এই তৎপরতার লক্ষ্য হলো দেশে অস্থিরতা বজায় রাখা, নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল আদায় করা অথবা পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে নির্বাচন বিলম্বিত করা।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, বাংলাদেশের অস্থিরতা আসলে বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিকল্পনার অংশ। পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্লিপার সেল সক্রিয় করা, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ বাড়ানো এবং ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করাই আইএসআই-এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য—বিশেষ করে আগামী বছরের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনকে সামনে রেখে।
ভারতীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের উত্তেজনা মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত। হুমকিকে গুরুতর হিসেবে দেখলেও, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে তারা আস্থাশীল বলে জানানো হয়েছে।