বই ছাড়া নতুন বছর,রাষ্ট্রের ব্যর্থতার নগ্ন প্রমাণ

নিউজ ডেস্ক ::বছরের প্রথম দিন একসময় ছিল শিশুদের হাতে নতুন বই, মুখে হাসি আর স্কুলজুড়ে উৎসবের দিন। আজ সেই দিনটি পরিণত হয়েছে লজ্জার স্মারকে। অর্ধেক শিক্ষার্থী নতুন বই পায়নি, অনেক জায়গায় বই উৎসবই হয়নি। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ত্রুটি নয়—এটি রাষ্ট্রের চরম অব্যবস্থাপনা ও অগ্রাধিকারের ভয়াবহ সংকট।
গ্রাম-গঞ্জের ছোট শিশুরা যখন বই হাতে উৎসবে মেতে ওঠে, তখন তাদের মনে জন্ম নেয় বড় হওয়ার স্বপ্ন—ডাক্তার, শিক্ষক, প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন। বছরের প্রথম দিনেই যদি রাষ্ট্র তাদের হাতে শূন্যতা তুলে দেয়, তাহলে সেই স্বপ্ন ভাঙার দায় কার? তখন তাদের ভবিষ্যৎ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে—এনজিওর ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে হাঁস-মুরগি বা ছাগল পালনের এক অন্তহীন চক্রে।
সমস্যা সুযোগের অভাব নয়। সমস্যা হলো, বারবার সুযোগ পাওয়ার পরও অযোগ্য, দায়িত্বহীন ও ব্যর্থ মানুষের হাতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে তুলে দেওয়া। শিক্ষা খাতে কোনো পরিকল্পনা নেই, জবাবদিহি নেই, দায়বদ্ধতা নেই—আছে শুধু লোক দেখানো উন্নয়নের গল্প।
এই সরকার দুই বছর ধরে ক্ষমতায়। তবু যদি বছরের প্রথম দিনেও শিশুদের হাতে বই পৌঁছাতে না পারে, তাহলে প্রশ্ন সময়ের নয়—প্রশাসনিক সক্ষমতার। শিক্ষা যদি উৎসব না হয়, যদি শিশুদের জন্য আনন্দের বিষয় না হয়, তবে তথাকথিত উন্নয়ন কেবল কাগজ আর বক্তৃতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে শ্রেণিকক্ষে। সেই শ্রেণিকক্ষ যদি অবহেলার শিকার হয়, তাহলে কোনো উন্নয়নের গল্পই শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য থাকে না—থাকবে শুধু ব্যর্থতার দায়।

Tag :

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

Glorifying War Criminals in an Illegal Parliament During the Month of Independence: A Shameful Chapter in History and an Ultimate Act of National Betrayal

বই ছাড়া নতুন বছর,রাষ্ট্রের ব্যর্থতার নগ্ন প্রমাণ

Update Time : 06:47:15 am, Friday, 2 January 2026

নিউজ ডেস্ক ::বছরের প্রথম দিন একসময় ছিল শিশুদের হাতে নতুন বই, মুখে হাসি আর স্কুলজুড়ে উৎসবের দিন। আজ সেই দিনটি পরিণত হয়েছে লজ্জার স্মারকে। অর্ধেক শিক্ষার্থী নতুন বই পায়নি, অনেক জায়গায় বই উৎসবই হয়নি। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ত্রুটি নয়—এটি রাষ্ট্রের চরম অব্যবস্থাপনা ও অগ্রাধিকারের ভয়াবহ সংকট।
গ্রাম-গঞ্জের ছোট শিশুরা যখন বই হাতে উৎসবে মেতে ওঠে, তখন তাদের মনে জন্ম নেয় বড় হওয়ার স্বপ্ন—ডাক্তার, শিক্ষক, প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন। বছরের প্রথম দিনেই যদি রাষ্ট্র তাদের হাতে শূন্যতা তুলে দেয়, তাহলে সেই স্বপ্ন ভাঙার দায় কার? তখন তাদের ভবিষ্যৎ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে—এনজিওর ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে হাঁস-মুরগি বা ছাগল পালনের এক অন্তহীন চক্রে।
সমস্যা সুযোগের অভাব নয়। সমস্যা হলো, বারবার সুযোগ পাওয়ার পরও অযোগ্য, দায়িত্বহীন ও ব্যর্থ মানুষের হাতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে তুলে দেওয়া। শিক্ষা খাতে কোনো পরিকল্পনা নেই, জবাবদিহি নেই, দায়বদ্ধতা নেই—আছে শুধু লোক দেখানো উন্নয়নের গল্প।
এই সরকার দুই বছর ধরে ক্ষমতায়। তবু যদি বছরের প্রথম দিনেও শিশুদের হাতে বই পৌঁছাতে না পারে, তাহলে প্রশ্ন সময়ের নয়—প্রশাসনিক সক্ষমতার। শিক্ষা যদি উৎসব না হয়, যদি শিশুদের জন্য আনন্দের বিষয় না হয়, তবে তথাকথিত উন্নয়ন কেবল কাগজ আর বক্তৃতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে শ্রেণিকক্ষে। সেই শ্রেণিকক্ষ যদি অবহেলার শিকার হয়, তাহলে কোনো উন্নয়নের গল্পই শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য থাকে না—থাকবে শুধু ব্যর্থতার দায়।