নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয় এটি রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের ধারণা জনমনে স্বস্তির পরিবর্তে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি তৈরি করে। কারণ জনগণ জানে নির্বাচনের পর আসল প্রশ্নটি ক্ষমতা দখলের নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতার। দেশ চালানো মানে শুধু সরকার গঠন নয় এটি একটি জটিল, বহুমাত্রিক এবং অভিজ্ঞতানির্ভর প্রক্রিয়া।
বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র, যা অতীতে একাধিকবার অর্থনৈতিক, নিরাপত্তাগত ও আদর্শিক সংকটের কিনারায় দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের বাস্তবতায় রাষ্ট্র পরিচালনায় পরীক্ষানিরীক্ষার সুযোগ সীমিত। অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো শক্তি ক্ষমতায় এলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কারণ ঝুঁকিপূর্ণ ও আঘাতপ্রাপ্ত একটি রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করার জন্য যে প্রশাসনিক দক্ষতা, নীতি-ধারাবাহিকতা ও রাষ্ট্রচালনার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তা অন্যদের মধ্যে অনুপস্থিত।
একসময় বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোর তালিকায় শীর্ষে ছিল। সেই অবস্থান থেকে ধাপে ধাপে বেরিয়ে আসতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহির কাঠামো গড়ে তোলার যে অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে, তা মূলত আওয়ামী লীগের শাসনামলেই সঞ্চিত। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই স্লোগানে নয় এটি জানতে হয় দুর্নীতির উৎস কোথায়, কোন স্তরে তা গভীর হয় এবং রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ কোন পর্যায়ে কার্যকর হয়।
জঙ্গিবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। বাংলাদেশ এমন সময় পার করেছে, যখন জঙ্গি উৎপাদন রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রাজনৈতিক দৃঢ়তা, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়ে সেই সংকট মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে। আজও জঙ্গিবাদ নির্মূল বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ, এবং এই ক্ষেত্রে পরীক্ষিত সক্ষমতা আওয়ামী লীগের হাতেই রয়েছে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন কোনো তাৎক্ষণিক সাফল্য নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যেখানে প্রয়োজন নীতি-ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক আস্থার পরিবেশ। দারিদ্র্য থেকে মধ্যম আয়ের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কোনো তাত্ত্বিক মডেলের ফল নয় এটি বাস্তব রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকেই অর্জিত।
সাম্প্রতিক সময় আবারও প্রমাণ করেছে রাষ্ট্র পরিচালনায় নামী-দামী পরিচয় বা আন্তর্জাতিক খ্যাতি যথেষ্ট নয়। ড. ইউনুসের মতো পরিচিত ব্যক্তিত্বের নেতৃত্বে দেশ পরিচালনায় যে ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে, তা আজ আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অর্থনৈতিক স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট, আয় হ্রাস, জঙ্গি উত্থানের আশঙ্কা এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা মিলিয়ে দেশ এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ইউরোপ-আমেরিকার আদলে আধুনিক রাষ্ট্র গড়ার যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তার পরিবর্তে মানুষ দেখতে পাচ্ছে অস্থিতিশীল অঞ্চলের ছায়া।
এই অভিজ্ঞতার পর স্বাভাবিকভাবেই দেশের মানুষ শেখ হাসিনার আমলের রাষ্ট্র পরিচালনার দিকে ফিরে তাকাচ্ছে। এটি কোনো আবেগী নস্টালজিয়া নয় এটি তুলনামূলক বাস্তব মূল্যায়ন। মানুষ বোঝে কোন সময়ে দেশ নিরাপদ ছিল, অর্থনীতি সচল ছিল এবং রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা সুস্পষ্ট ছিল।
এই কারণেই আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে তা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। জনগণের একটি বড় অংশ এমন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে দেখবে। এটি কোনো উগ্র মনোভাব নয় বরং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেওয়া আস্থাহীনতার প্রতিফলন।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সামনে তিনটি মৌলিক চ্যালেঞ্জ জঙ্গিবাদ নির্মূল, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে রাষ্ট্র পরিচালনা। এই তিন ক্ষেত্রেই বাস্তব অভিজ্ঞতা, সক্ষমতা ও ধারাবাহিকতার বিচারে আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভর করা যুক্তিসংগত নয়।
এই উপলব্ধি কোনো দলীয় আনুগত্যের প্রকাশ নয়। এটি একজন সচেতন নাগরিকের বাস্তববাদী মূল্যায়ন।
রাষ্ট্র আবেগে নয় অভিজ্ঞতার হাতেই নিরাপদ থাকে।
শিরোনাম :
রাষ্ট্র পরিচালনা নাম নয়, সক্ষমতার পরীক্ষা
-
সুরজিত, - Update Time : 06:56:47 am, Saturday, 27 December 2025
- 49 Time View
Tag :
জনপ্রিয়










