ডেস্ক রিপোর্ট:
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের সামনে দাঁড়িয়ে ভারত ও বাংলাদেশ। ২০২৬ সালে শেষ হতে যাচ্ছে ইন্দো–বাংলাদেশ ফারাক্কা জলচুক্তি—যে চুক্তি শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানিবণ্টনের নীতিমালা নির্ধারণ করে এসেছে গত কয়েক দশক ধরে।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় বসতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি জলচুক্তির অবসান নয়—বরং ২০২৬-পরবর্তী ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের কাঠামো নির্ধারণের একটি বড় সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ।
কেন গুরুত্বপূর্ণ ফারাক্কা চুক্তি?
ফারাক্কা ব্যারাজের মাধ্যমে গঙ্গার পানি বণ্টন এতদিন একটি আইনগত বাধ্যবাধকতার মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু ২০২৬-এর পর যদি নতুন কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে—
ভারতের আর বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট হারে পানি দেওয়ার আইনগত দায়বদ্ধতা থাকবে না।
এটাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা।
বাংলাদেশের সামনে কী চ্যালেঞ্জ?
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ সরকারকে বাস্তবতা মেনে কঠিন ও বাস্তবভিত্তিক কূটনৈতিক আলোচনায় যেতে হবে। পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনায় আনতে হবে।
ভারতের দরকষাকষির শক্ত অবস্থান
অন্যদিকে ভারতের জন্য এটি একটি কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থান। জলবণ্টনের প্রশ্নের সঙ্গে একাধিক বিষয় একই টেবিলে আসতে পারে, যেমন—
সীমান্ত নিরাপত্তা
অনুপ্রবেশ ইস্যু
বাণিজ্য ও ট্রানজিট
আঞ্চলিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা
ফলে ফারাক্কা চুক্তি আর শুধু পানি নয়—এটি হয়ে উঠছে একটি বহুমাত্রিক কূটনৈতিক ইস্যু।
সামনে কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬-পরবর্তী সময় নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কূটনৈতিক দক্ষতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভারসাম্যের ওপর।
ফারাক্কা জলচুক্তির ভবিষ্যৎ শুধু ভারত ও বাংলাদেশের নয়—এর প্রভাব পড়বে গোটা অঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি ও স্থিতিশীলতার ওপর।
সিদ্ধান্ত নেবে কূটনীতি,
আর ফল ভোগ করবে পুরো অঞ্চল।
শিরোনাম :
২০২৬-এ শেষ হচ্ছে ফারাক্কা জলচুক্তি
ফারাক্কা জলচুক্তির মেয়াদ শেষ ২০২৬-এ, কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষায় বাংলাদেশ
-
সুরজিত দাস, - Update Time : 07:27:01 pm, Wednesday, 31 December 2025
- 103 Time View
Tag :
জনপ্রিয়










