বাংলাদেশে ভোট নয়, এখন মূল প্রশ্ন দিল্লির ভিসা

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন আর নির্বাচন প্রধান ইস্যু নয়। ভোটার নয়, ব্যালট নয় মূল প্রশ্ন একটাই দিল্লি কাকে গ্রহণযোগ্য মনে করছে। এই বাস্তবতা যতই অস্বস্তিকর হোক, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নাটক সেই সত্যই নগ্নভাবে সামনে এনে দিয়েছে।
বিএনপি–জামায়াতের আচরণ দেখলে প্রশ্ন জাগে এরা কি বিরোধী রাজনীতি করছে, নাকি দিল্লির দরজায় কড়া নাড়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে? যে রাজনৈতিক শক্তি একসময় ভারতবিরোধিতাকে দেশপ্রেমের সার্টিফিকেট হিসেবে ব্যবহার করত, আজ তারাই নীরবে দিল্লিমুখী। “ঢাকা না দিল্লি” শ্লোগান উধাও কারণ ঢাকায় ক্ষমতায় যেতে হলে যে দিল্লির অঘোষিত অনুমোদন দরকার, সেই সত্য আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
এটি কোনো আদর্শিক পরিণতি নয় এটি রাজনৈতিক সুবিধাবাদের চরম রূপ। ক্ষমতার জন্য প্রয়োজন হলে গতকালের শত্রু আজ বন্ধু এই নীতিই এখন চালু।
এই অবস্থায় সুশীল সমাজের প্রশ্ন ভারত কি একটি পাতানো, অংশগ্রহণহীন নির্বাচনকে বৈধতা দেবে? প্রশ্নটি নৈতিকভাবে জরুরি, কিন্তু বাস্তবে প্রায় নিষ্প্রয়োজন। কারণ ভারত গণতন্ত্র রপ্তানি করে না ভারত রপ্তানি করে স্থিতিশীলতা। তাদের কাছে নির্বাচন মানে জনগণের মতামত নয়, বরং এমন একটি বন্দোবস্ত, যাতে সীমান্ত শান্ত থাকে এবং দিল্লির কৌশলগত স্বার্থ অক্ষত থাকে।
তাই প্রকাশ্যে বলা হয়, “সব দলের অংশগ্রহণ চাই”, আর নীরবে মেনে নেওয়া হয় এমন নির্বাচন, যেখানে অংশগ্রহণ নামমাত্র।

আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন নিয়ে যারা আশাবাদী, তাদের বাস্তবতা বোঝা দরকার। আওয়ামী লীগ ভারতের কাছে কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি নিরাপত্তা প্রকল্প। সীমান্ত, জঙ্গিবাদ, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদ এই সবকিছু সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে দিল্লি আওয়ামী লীগকে পরীক্ষিত মনে করে। ফলে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যে কোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ভারতের কাছে স্বস্তির কারণ হবে এমন ভাবনা রাজনৈতিক সরলতা, না হয় আত্মপ্রবঞ্চনা।
অন্যদিকে বিএনপি–জামায়াতের সবচেয়ে বড় বোঝা পাকিস্তান। ভারতের চোখে পাকিস্তান চিরশত্রু, আর সেই শত্রুর সঙ্গে অতীত রাজনৈতিক ও আদর্শিক ঘনিষ্ঠতা বিএনপি–জামায়াতের কপালে স্থায়ী দাগ হয়ে আছে। আজ পাকিস্তান প্রসঙ্গে যে নিস্তব্ধতা, তা নীতিগত সংশোধন নয়—এটি কেবল স্মৃতি ঢাকার চেষ্টা। দিল্লি অবশ্য এসব ভুলে যাওয়ার জন্য বিখ্যাত নয়।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো এই পুরো সমীকরণে বাংলাদেশের জনগণ অনুপস্থিত। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, অংশগ্রহণ এসব এখন কেবল বক্তৃতার অলংকার। বাস্তবে রাজনীতি চলছে এই হিসাবেই কে দিল্লিকে কতটা আশ্বস্ত করতে পারছে।
ক্ষমতার লড়াই আর জনগণের আকাঙ্ক্ষার লড়াই এক বিন্দুতেও মিলছে না। সরকার ক্ষমতায় থাকতে চায় দিল্লির নিশ্চয়তায়, বিরোধী দল ক্ষমতায় যেতে চায় দিল্লির অনুকম্পায়। মাঝখানে পড়ে থাকে জনগণ দর্শক হয়ে।

Tag :

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

Glorifying War Criminals in an Illegal Parliament During the Month of Independence: A Shameful Chapter in History and an Ultimate Act of National Betrayal

বাংলাদেশে ভোট নয়, এখন মূল প্রশ্ন দিল্লির ভিসা

Update Time : 06:38:30 am, Friday, 2 January 2026

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন আর নির্বাচন প্রধান ইস্যু নয়। ভোটার নয়, ব্যালট নয় মূল প্রশ্ন একটাই দিল্লি কাকে গ্রহণযোগ্য মনে করছে। এই বাস্তবতা যতই অস্বস্তিকর হোক, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নাটক সেই সত্যই নগ্নভাবে সামনে এনে দিয়েছে।
বিএনপি–জামায়াতের আচরণ দেখলে প্রশ্ন জাগে এরা কি বিরোধী রাজনীতি করছে, নাকি দিল্লির দরজায় কড়া নাড়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে? যে রাজনৈতিক শক্তি একসময় ভারতবিরোধিতাকে দেশপ্রেমের সার্টিফিকেট হিসেবে ব্যবহার করত, আজ তারাই নীরবে দিল্লিমুখী। “ঢাকা না দিল্লি” শ্লোগান উধাও কারণ ঢাকায় ক্ষমতায় যেতে হলে যে দিল্লির অঘোষিত অনুমোদন দরকার, সেই সত্য আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
এটি কোনো আদর্শিক পরিণতি নয় এটি রাজনৈতিক সুবিধাবাদের চরম রূপ। ক্ষমতার জন্য প্রয়োজন হলে গতকালের শত্রু আজ বন্ধু এই নীতিই এখন চালু।
এই অবস্থায় সুশীল সমাজের প্রশ্ন ভারত কি একটি পাতানো, অংশগ্রহণহীন নির্বাচনকে বৈধতা দেবে? প্রশ্নটি নৈতিকভাবে জরুরি, কিন্তু বাস্তবে প্রায় নিষ্প্রয়োজন। কারণ ভারত গণতন্ত্র রপ্তানি করে না ভারত রপ্তানি করে স্থিতিশীলতা। তাদের কাছে নির্বাচন মানে জনগণের মতামত নয়, বরং এমন একটি বন্দোবস্ত, যাতে সীমান্ত শান্ত থাকে এবং দিল্লির কৌশলগত স্বার্থ অক্ষত থাকে।
তাই প্রকাশ্যে বলা হয়, “সব দলের অংশগ্রহণ চাই”, আর নীরবে মেনে নেওয়া হয় এমন নির্বাচন, যেখানে অংশগ্রহণ নামমাত্র।

আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন নিয়ে যারা আশাবাদী, তাদের বাস্তবতা বোঝা দরকার। আওয়ামী লীগ ভারতের কাছে কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি নিরাপত্তা প্রকল্প। সীমান্ত, জঙ্গিবাদ, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদ এই সবকিছু সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে দিল্লি আওয়ামী লীগকে পরীক্ষিত মনে করে। ফলে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যে কোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ভারতের কাছে স্বস্তির কারণ হবে এমন ভাবনা রাজনৈতিক সরলতা, না হয় আত্মপ্রবঞ্চনা।
অন্যদিকে বিএনপি–জামায়াতের সবচেয়ে বড় বোঝা পাকিস্তান। ভারতের চোখে পাকিস্তান চিরশত্রু, আর সেই শত্রুর সঙ্গে অতীত রাজনৈতিক ও আদর্শিক ঘনিষ্ঠতা বিএনপি–জামায়াতের কপালে স্থায়ী দাগ হয়ে আছে। আজ পাকিস্তান প্রসঙ্গে যে নিস্তব্ধতা, তা নীতিগত সংশোধন নয়—এটি কেবল স্মৃতি ঢাকার চেষ্টা। দিল্লি অবশ্য এসব ভুলে যাওয়ার জন্য বিখ্যাত নয়।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো এই পুরো সমীকরণে বাংলাদেশের জনগণ অনুপস্থিত। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, অংশগ্রহণ এসব এখন কেবল বক্তৃতার অলংকার। বাস্তবে রাজনীতি চলছে এই হিসাবেই কে দিল্লিকে কতটা আশ্বস্ত করতে পারছে।
ক্ষমতার লড়াই আর জনগণের আকাঙ্ক্ষার লড়াই এক বিন্দুতেও মিলছে না। সরকার ক্ষমতায় থাকতে চায় দিল্লির নিশ্চয়তায়, বিরোধী দল ক্ষমতায় যেতে চায় দিল্লির অনুকম্পায়। মাঝখানে পড়ে থাকে জনগণ দর্শক হয়ে।