চিকেন নেক প্রশ্নে ইউনুসের সিদ্ধান্তে অস্বস্তিতে ভারত

ঢাকা: ভারতের কৌশলগত নিরাপত্তার সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেন নেক’ (Chicken Neck)কে ঘিরে ফের উত্তেজনা বাড়াল বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস যে ভাষায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘Landlocked’ বলে মন্তব্য করেছিলেন, তার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক ধাক্কা দিল ঢাকা।

এবার সরাসরি তিস্তা নদী প্রকল্প এলাকাতে চিনা রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে গেল বাংলাদেশ সরকার এমন এক জায়গায়, যা ভারতের শিলিগুড়ি করিডরের অত্যন্ত কাছাকাছি। কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে নিছক সৌজন্য সফর নয়, বরং পরিকল্পিত কৌশলগত বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই সফরে চিনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তাঁর উপস্থিতি বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। কারণ তিস্তা নদী শুধুমাত্র পরিবেশ বা উন্নয়নের প্রশ্ন নয় এটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের দীর্ঘদিনের স্পর্শকাতর ইস্যু।

শিলিগুড়ি করিডর ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের একমাত্র স্থলসংযোগ। মাত্র ২০-২৫ কিলোমিটার চওড়া এই করিডর যদি কোনওভাবে হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে আসাম, অরুণাচল, মণিপুর-সহ গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। এই করিডরের উত্তর দিকে নেপাল, দক্ষিণে বাংলাদেশ, আর পূর্ব দিকে ভুটান ও চিন ফলে সামান্য কৌশলগত নাড়াচাড়াও ভারতের নিরাপত্তার পক্ষে মারাত্মক হতে পারে।

এর আগেই মহম্মদ ইউনূস প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ‘Landlocked’ এবং সেই অঞ্চলে চিনা অর্থনীতির প্রসার ঘটানো যেতে পারে। এই মন্তব্যে নয়াদিল্লি স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়। কারণ এতে শুধু ভারতের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি, বরং চিনকে সরাসরি একটি ভূ-কৌশলগত সুযোগের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

তিস্তা প্রকল্প এলাকায় চিনা দূতকে নিয়ে যাওয়া সেই মন্তব্যেরই বাস্তব রূপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এটি যেন ভারতের দিকে স্পষ্ট বার্তা বাংলাদেশ ক্রমশ চিনের সঙ্গে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির সামনে প্রশ্ন একটাই কীভাবে জবাব দেবে ভারত? কূটনৈতিক স্তরে প্রতিবাদ? নাকি সীমান্ত এলাকায় আরও শক্তিশালী সামরিক ও পরিকাঠামোগত উপস্থিতি? বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র নোট ভার্বাল বা বিবৃতি দিয়ে এই ধরনের Strategic Needling-এর জবাব দেওয়া যথেষ্ট নয়। শিলিগুড়ি করিডর এলাকায় পরিকাঠামো, সেনা চলাচল ও নজরদারি আরও জোরদার করা উচিত বলেও মনে করেছেন তারা।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিছক উন্নয়ন বা পরিবেশ সংক্রান্ত সফর নয় বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে একটি Calculated Signal। চিনকে সামনে রেখে ভারতের সবচেয়ে দুর্বল কৌশলগত বিন্দুতে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা স্পষ্ট।

এখন দেখার, নয়াদিল্লি কেবল কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি কঠোর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে যায়। কারণ ‘চিকেন নেক’ নিয়ে কোনও ধরনের আপস ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে মারাত্মক ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে।

Tag :

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

Glorifying War Criminals in an Illegal Parliament During the Month of Independence: A Shameful Chapter in History and an Ultimate Act of National Betrayal

চিকেন নেক প্রশ্নে ইউনুসের সিদ্ধান্তে অস্বস্তিতে ভারত

Update Time : 10:37:34 am, Friday, 23 January 2026

ঢাকা: ভারতের কৌশলগত নিরাপত্তার সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেন নেক’ (Chicken Neck)কে ঘিরে ফের উত্তেজনা বাড়াল বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস যে ভাষায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘Landlocked’ বলে মন্তব্য করেছিলেন, তার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক ধাক্কা দিল ঢাকা।

এবার সরাসরি তিস্তা নদী প্রকল্প এলাকাতে চিনা রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে গেল বাংলাদেশ সরকার এমন এক জায়গায়, যা ভারতের শিলিগুড়ি করিডরের অত্যন্ত কাছাকাছি। কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে নিছক সৌজন্য সফর নয়, বরং পরিকল্পিত কৌশলগত বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই সফরে চিনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তাঁর উপস্থিতি বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। কারণ তিস্তা নদী শুধুমাত্র পরিবেশ বা উন্নয়নের প্রশ্ন নয় এটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের দীর্ঘদিনের স্পর্শকাতর ইস্যু।

শিলিগুড়ি করিডর ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের একমাত্র স্থলসংযোগ। মাত্র ২০-২৫ কিলোমিটার চওড়া এই করিডর যদি কোনওভাবে হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে আসাম, অরুণাচল, মণিপুর-সহ গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। এই করিডরের উত্তর দিকে নেপাল, দক্ষিণে বাংলাদেশ, আর পূর্ব দিকে ভুটান ও চিন ফলে সামান্য কৌশলগত নাড়াচাড়াও ভারতের নিরাপত্তার পক্ষে মারাত্মক হতে পারে।

এর আগেই মহম্মদ ইউনূস প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ‘Landlocked’ এবং সেই অঞ্চলে চিনা অর্থনীতির প্রসার ঘটানো যেতে পারে। এই মন্তব্যে নয়াদিল্লি স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়। কারণ এতে শুধু ভারতের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি, বরং চিনকে সরাসরি একটি ভূ-কৌশলগত সুযোগের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

তিস্তা প্রকল্প এলাকায় চিনা দূতকে নিয়ে যাওয়া সেই মন্তব্যেরই বাস্তব রূপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এটি যেন ভারতের দিকে স্পষ্ট বার্তা বাংলাদেশ ক্রমশ চিনের সঙ্গে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির সামনে প্রশ্ন একটাই কীভাবে জবাব দেবে ভারত? কূটনৈতিক স্তরে প্রতিবাদ? নাকি সীমান্ত এলাকায় আরও শক্তিশালী সামরিক ও পরিকাঠামোগত উপস্থিতি? বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র নোট ভার্বাল বা বিবৃতি দিয়ে এই ধরনের Strategic Needling-এর জবাব দেওয়া যথেষ্ট নয়। শিলিগুড়ি করিডর এলাকায় পরিকাঠামো, সেনা চলাচল ও নজরদারি আরও জোরদার করা উচিত বলেও মনে করেছেন তারা।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিছক উন্নয়ন বা পরিবেশ সংক্রান্ত সফর নয় বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে একটি Calculated Signal। চিনকে সামনে রেখে ভারতের সবচেয়ে দুর্বল কৌশলগত বিন্দুতে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা স্পষ্ট।

এখন দেখার, নয়াদিল্লি কেবল কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি কঠোর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে যায়। কারণ ‘চিকেন নেক’ নিয়ে কোনও ধরনের আপস ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে মারাত্মক ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে।