শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন: ‘ইঞ্জিনিয়ার’ তারেককে ঘিরে নেটদুনিয়ায় মস্করা

ঢাকা: বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-র বিপুল জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। তবে এবার বিতর্কের কেন্দ্রে কোনো নীতি বা আদর্শ নয়, বরং বিএনপি প্রধান তথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি নতুন ‘তকমা’। জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি-র (NCP) সমর্থকদের কাছে তিনি এখন পরিচিত হচ্ছেন ‘ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে। মূলত নির্বাচনের ফল ‘ম্যানিপুলেট’ বা কারিকুরি করার অভিযোগেই এই শ্লেষাত্মক উপাধির ব্যবহার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ইঞ্জিনিয়ার’ ট্রেন্ড
নির্বাচনে অভাবনীয় কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রথম এই কটাক্ষের সূত্রপাত করেন এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। ফেসবুকে তিনি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, “নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাচে সাফল্যের জন্য অভিনন্দন, ইঞ্জিনিয়ার তারেক রহমান।” মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয় এই পোস্ট। এরপরই নেটিজেনদের একাংশ তারেক রহমানের এআই-জেনারেটেড (AI) ছবি শেয়ার করতে শুরু করেন, যেখানে তাঁকে ইঞ্জিনিয়ারিং হ্যাট পরিহিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোকে ইঙ্গিত করে বিদ্রূপ ধেয়ে আসছে, “লন্ডন থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস।” শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে রসিকতা
তারেক রহমানের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি (HSC) বা উচ্চমাধ্যমিক। এই তথ্যকে হাতিয়ার করেই নেটিজেনরা ব্যঙ্গ করে লিখছেন, “শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই বড় ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায়।” ভোটারদের ম্যান্ডেট ছিনতাই করে ক্ষমতায় আসার কৌশলকেই রূপক হিসেবে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ তকমা দিচ্ছে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

বিএনপি-র রক্ষণ ও জামায়াতের আক্রমণ
ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠতেই গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি শান্ত স্বরে উত্তর দেন, “জনগণকে ভোট দিতে উৎসাহিত করাই ছিল আমাদের একমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং।” তবে এই উত্তরে সন্তুষ্ট নয় বিরোধীরা। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এবং এনসিপি-র আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, ঢাকা-১৩, ১৫, ১৭-সহ একাধিক আসনে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এটি কোনো নির্বাচন নয়, স্রেফ ‘ডেটা ম্যানিপুলেশন’।

পর্দার আড়ালের ‘আসল ইঞ্জিনিয়ার’ কে?
তারেক রহমানকে নিয়ে যখন সরগরম নেটপাড়া, তখন ভিন্ন এক বিশ্লেষণ তুলে ধরছেন সাংবাদিকরা। বিশিষ্ট সাংবাদিক স্বদেশ রায়ের মতে, এই নির্বাচনের প্রকৃত কারিগর বা ‘ইঞ্জিনিয়ার’ আসলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর কৌশলেই দেশের অন্যতম প্রধান দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা সম্ভব হয়েছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে সেই নির্বাচনকে ‘অংশগ্রহণমূলক’ হিসেবে স্বীকৃতিও আদায় করে নেওয়া হয়েছে।

জামায়াত ও এনসিপি ইতিমধ্যেই ৩২টি আসনে ফল চ্যালেঞ্জ করে অভিযোগ দায়ের করেছে। নির্বাচনের পর হিংসা ও নিপীড়নের অভিযোগে রাজপথে আন্দোলনের হুমকিও দিয়ে রেখেছে তারা। ফলে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ বিতর্ক যে সহসাই থামছে না, তা বলাই বাহুল্য।

Tag :

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

Glorifying War Criminals in an Illegal Parliament During the Month of Independence: A Shameful Chapter in History and an Ultimate Act of National Betrayal

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন: ‘ইঞ্জিনিয়ার’ তারেককে ঘিরে নেটদুনিয়ায় মস্করা

Update Time : 07:21:57 pm, Wednesday, 18 February 2026

ঢাকা: বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-র বিপুল জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। তবে এবার বিতর্কের কেন্দ্রে কোনো নীতি বা আদর্শ নয়, বরং বিএনপি প্রধান তথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি নতুন ‘তকমা’। জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি-র (NCP) সমর্থকদের কাছে তিনি এখন পরিচিত হচ্ছেন ‘ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে। মূলত নির্বাচনের ফল ‘ম্যানিপুলেট’ বা কারিকুরি করার অভিযোগেই এই শ্লেষাত্মক উপাধির ব্যবহার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ইঞ্জিনিয়ার’ ট্রেন্ড
নির্বাচনে অভাবনীয় কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রথম এই কটাক্ষের সূত্রপাত করেন এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। ফেসবুকে তিনি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, “নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাচে সাফল্যের জন্য অভিনন্দন, ইঞ্জিনিয়ার তারেক রহমান।” মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয় এই পোস্ট। এরপরই নেটিজেনদের একাংশ তারেক রহমানের এআই-জেনারেটেড (AI) ছবি শেয়ার করতে শুরু করেন, যেখানে তাঁকে ইঞ্জিনিয়ারিং হ্যাট পরিহিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোকে ইঙ্গিত করে বিদ্রূপ ধেয়ে আসছে, “লন্ডন থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস।” শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে রসিকতা
তারেক রহমানের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি (HSC) বা উচ্চমাধ্যমিক। এই তথ্যকে হাতিয়ার করেই নেটিজেনরা ব্যঙ্গ করে লিখছেন, “শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই বড় ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায়।” ভোটারদের ম্যান্ডেট ছিনতাই করে ক্ষমতায় আসার কৌশলকেই রূপক হিসেবে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ তকমা দিচ্ছে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

বিএনপি-র রক্ষণ ও জামায়াতের আক্রমণ
ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠতেই গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি শান্ত স্বরে উত্তর দেন, “জনগণকে ভোট দিতে উৎসাহিত করাই ছিল আমাদের একমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং।” তবে এই উত্তরে সন্তুষ্ট নয় বিরোধীরা। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এবং এনসিপি-র আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, ঢাকা-১৩, ১৫, ১৭-সহ একাধিক আসনে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এটি কোনো নির্বাচন নয়, স্রেফ ‘ডেটা ম্যানিপুলেশন’।

পর্দার আড়ালের ‘আসল ইঞ্জিনিয়ার’ কে?
তারেক রহমানকে নিয়ে যখন সরগরম নেটপাড়া, তখন ভিন্ন এক বিশ্লেষণ তুলে ধরছেন সাংবাদিকরা। বিশিষ্ট সাংবাদিক স্বদেশ রায়ের মতে, এই নির্বাচনের প্রকৃত কারিগর বা ‘ইঞ্জিনিয়ার’ আসলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর কৌশলেই দেশের অন্যতম প্রধান দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা সম্ভব হয়েছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে সেই নির্বাচনকে ‘অংশগ্রহণমূলক’ হিসেবে স্বীকৃতিও আদায় করে নেওয়া হয়েছে।

জামায়াত ও এনসিপি ইতিমধ্যেই ৩২টি আসনে ফল চ্যালেঞ্জ করে অভিযোগ দায়ের করেছে। নির্বাচনের পর হিংসা ও নিপীড়নের অভিযোগে রাজপথে আন্দোলনের হুমকিও দিয়ে রেখেছে তারা। ফলে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ বিতর্ক যে সহসাই থামছে না, তা বলাই বাহুল্য।