নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগস্টের শেষ প্রহরে সারাদেশ যেন রক্তে ভিজে উঠল। রবিবার (৩১ আগস্ট) ও তার আগের রাতজুড়ে বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত সহিংসতা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, মব সহিংসতা ও রাজনৈতিক হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কুমিল্লা
কুমিল্লা নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের রামনগরে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে শাহিন হোসেন (৩৮) নামের এক যুবক তার মা লুৎফা বেগম (৭০) ও বোন আয়েশা আক্তার শিল্পীকে (৪০) খুন করেছে। পরে তাকে পুলিশ আটক করে।
একইদিন নগরের কাটাবিল এলাকায় দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন মহরম হোসেন (৩৫)।
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় রবিবার দুপুরে ভয়াবহ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারায় শিশু ইফতি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসলামী ছাত্রশিবির কর্মীদের ছোড়া গুলিতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
এছাড়া নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার হিলভিউ এলাকায় শনিবার রাত ১টার দিকে ছুরিকাঘাতে নিহত হন কাঠমিস্ত্রি আবদুল্লাহ আল মনির ওরফে পিন্টু (৩৪)।
নাটোর
নাটোর সদর উপজেলার নেপালদিঘী গ্রামে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারান নবীর আলী (৫০)। রাত গভীরে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পাবনা
ঈশ্বরদীতে গৃহবধূ শারমিন আক্তার লিমা (২৫)-কে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবার দাবি করছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
পিরোজপুর
ভান্ডারিয়ার জুনিয়া গ্রামে মাগরিবের নামাজ শেষে ঘরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে গৃহবধূ আসমা আক্তারকে (৪৫)। মাত্র দুই দিনে একই এলাকায় দুই খুনের ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
যশোর
মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় ভ্যানচালক মিন্টু হোসেনকে (৪০) দফায় দফায় হামলার শিকার হতে হয়। অবশেষে রবিবার তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা ছাব্বির হোসেন ওরফে বড় ছাব্বিরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
নেত্রকোনা
সদর উপজেলার জামাটি গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে নিহত হন সাবেক ইউপি সদস্য দুজাহান মিয়া (৫৫) এবং একই গ্রামের যুবক নুর মোহাম্মদ (২৯)। আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
একদিনে এভাবে সারাদেশে ১১ জনের মৃত্যুতে জনমনে আতঙ্ক ও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কামরুল হাদী 









