আওয়ামী লীগ ছাড়া এই দেশে নির্বাচন হবে না,অবৈধ দখলদারদের খেলার শেষ সময় এসেছে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের জনজীবন, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের রক্তের ওপরে দাঁড়িয়ে গড়া এই জাতি এমন কোনো সুচতুর ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না যা তার ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক ধারাকে মুছিয়ে দিতে চায়। ২০২৪ সালের আগস্টে যে রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন আঘাত হেনে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিল, তার প্রেক্ষাপট আজও জীবন্ত,দেশের সাম্প্রতিক শীর্ষ নেতৃত্ব যিনি অনুমাত্রান্তে ‘অন্তর্বর্তীকালীন’ দায়িত্ব নেন তাঁর নেতৃত্বে নির্বাচনের রূপরেখা নির্ধারণের কথা বলেন। এই কালের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জনমত সম্পর্কে সংবাদ বিশ্লেষণ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।

কিন্তু ইতিহাস বিকৃত করে, মিথ্যা তকমা দিয়ে, ও অভিজাত ছুটে এসে ‘অবৈধতা’ রং দেওয়ার চেষ্টা করলে দেশ তা সহীন হবে না। যারা বলছে আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন সম্ভব তারা ইতিহাসকে ভুল ভাষায় উপস্থাপন করছে। জাতির কাছে বঙ্গবন্ধু-মুক্তিযুদ্ধ-আওয়ামী লীগ যে ঐহিত্যের পরিচয় তা সহজে মুছিয়ে ফেলা যাবে না আন্তর্জাতিক মঞ্চেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সৃষ্টির কাহিনী তার স্বকীয় স্থান হবার কারণে বিশ্বের সামনে এটি একটি শক্তিশালী ইতিহাস হিসেবে রয়ে গেছে।

যদি কারো অধীনেই ক্ষমতা অবৈধভাবে গৃহীত হয় তা দীর্ঘায়িত থাকতে দেয়া যায় না। নীতিহীনতা ও শক্তি-হীনতার মিশেলে যে সরকার গঠিত হয়েছে, যদি তা নির্বাচন-বিহীনভাবে টিকে থাকতে চায়, তবে সেটি গণতন্ত্রের বিকৃতি ঘটায়। অনেকে দাবি করেন যে ‘জাতীয় নির্বাচন’ পূর্বেই আয়োজন করলে দেশ দ্রুত স্থিতিশীল হবে কিন্তু নির্বাচন যাতে প্রকৃত অর্থে ন্যায়সঙ্গত ও সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মধ্যে হয় সেটাই পণ করতে হবে; আর বর্তমানে সেই নিশ্চিততার প্রশ্নটি সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয়। কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনও নির্দিষ্ট সময়কালের মধ্যে নির্বাচনের কথা তুলে ধরেছে।

আওয়ামী লীগের প্রতি ন্যূনতম ন্যায্যতা হলো একটি রাজনৈতিক শক্তি যাকে জনগণ দীর্ঘ সময় ধরে দেখে এসেছে তাকে রাজনৈতিক মাঠ থেকে নিষিদ্ধ বা মুছে ফেলা যাবে না শুধুমাত্র ষড়যন্ত্রের ভিত্তিতে। জনগণের মনে যে আস্থা ও ঐতিহ্য গেঁথে আছে, সেটাকে অবহেলা করে কেউ চাপিয়ে দিলে তার প্রতিক্রিয়া আসে আর সেটাই বর্তমানে দেখা যাচ্ছে। জনগণ অবৈধ দাবি বা মিথ্যাচার সহজে মানবে না, মাঠে, মিডিয়াতে, বক্তৃতায়, জনসমক্ষে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে ‘বৈধ নির্বাচন’ কথাটি গ্রহণযোগ্য হবে না।

যারা ক্ষমতার নেশায়, হাজার কোটিয়ের স্বপ্নে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর বিচরণ করেছেন—তাদের কাজেই আজ শৃঙ্খলা বিঘ্নিত। প্রতিরক্ষা, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থায় যদি দলীয় ব্যক্তিবর্গের লোকবর্গ বসে যায়, তখন প্রতিষ্ঠানগুলো আর স্বাধীন থাকে না; তার প্রভাব চলে আসে জনগণের জীবন, অর্থনীতি ও আইন-শৃঙ্খলায়। সুতরাং, দেশের স্বার্থে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা কোনোকালেই স্থিতিশীলতা দিতে পারে না—বরং সেটাই অস্হিরতার মূল। এই বাস্তব অভিজ্ঞতাও সাম্প্রতিক সরকারি কার্যক্রম ও তার প্রতিক্রিয়াগুলোতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

প্রকাশ্য কথায় স্পষ্ট,,
১) অবৈধভাবে দখলকৃত ক্ষমতা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আইনগত ও সংstitutional প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হোক—যেখানে জাতীয় নির্বাচন হবে অবাধ, ন্যায়সংগত ও সকল মূল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
২) সরকার যদি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে চায়, তাদের করতে হবে স্বচ্ছতা, ক্ষমতার অপব্যবহার তদন্ত ও দ্রুত সাংবিধানিক ব্যবস্থায় ফেরত যাওয়া।
৩) আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হোক—এতে করে নির্বাচন যদি প্রকৃত অর্থেই গণতান্ত্রিক হয়, তা বিশ্ব মঞ্চেও গ্রহণযোগ্য হবে।

যারা ভেবেছেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা-খাতে পরিণত করে, অহেতুক সত্য বিকৃতি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করলে ফল তারা দেখতে পাবে তা সময়ই দেখাবে। আওয়ামী লীগ ছাড়া এই দেশে নির্বাচন হবে না এটা কেবল এ দলের দাবি নয়; এটি দেশের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্ন। জনগণের দাবী অবৈধ সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সরকারের ধারাবাহিকতা হলে দেশই বাঁচবে আর দেশের মানুষের কষ্টও ধীরে ধীরে লাঘব হবে।

Tag :

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

Glorifying War Criminals in an Illegal Parliament During the Month of Independence: A Shameful Chapter in History and an Ultimate Act of National Betrayal

আওয়ামী লীগ ছাড়া এই দেশে নির্বাচন হবে না,অবৈধ দখলদারদের খেলার শেষ সময় এসেছে

Update Time : 06:49:52 am, Tuesday, 23 September 2025

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের জনজীবন, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের রক্তের ওপরে দাঁড়িয়ে গড়া এই জাতি এমন কোনো সুচতুর ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না যা তার ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক ধারাকে মুছিয়ে দিতে চায়। ২০২৪ সালের আগস্টে যে রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন আঘাত হেনে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিল, তার প্রেক্ষাপট আজও জীবন্ত,দেশের সাম্প্রতিক শীর্ষ নেতৃত্ব যিনি অনুমাত্রান্তে ‘অন্তর্বর্তীকালীন’ দায়িত্ব নেন তাঁর নেতৃত্বে নির্বাচনের রূপরেখা নির্ধারণের কথা বলেন। এই কালের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জনমত সম্পর্কে সংবাদ বিশ্লেষণ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।

কিন্তু ইতিহাস বিকৃত করে, মিথ্যা তকমা দিয়ে, ও অভিজাত ছুটে এসে ‘অবৈধতা’ রং দেওয়ার চেষ্টা করলে দেশ তা সহীন হবে না। যারা বলছে আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন সম্ভব তারা ইতিহাসকে ভুল ভাষায় উপস্থাপন করছে। জাতির কাছে বঙ্গবন্ধু-মুক্তিযুদ্ধ-আওয়ামী লীগ যে ঐহিত্যের পরিচয় তা সহজে মুছিয়ে ফেলা যাবে না আন্তর্জাতিক মঞ্চেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সৃষ্টির কাহিনী তার স্বকীয় স্থান হবার কারণে বিশ্বের সামনে এটি একটি শক্তিশালী ইতিহাস হিসেবে রয়ে গেছে।

যদি কারো অধীনেই ক্ষমতা অবৈধভাবে গৃহীত হয় তা দীর্ঘায়িত থাকতে দেয়া যায় না। নীতিহীনতা ও শক্তি-হীনতার মিশেলে যে সরকার গঠিত হয়েছে, যদি তা নির্বাচন-বিহীনভাবে টিকে থাকতে চায়, তবে সেটি গণতন্ত্রের বিকৃতি ঘটায়। অনেকে দাবি করেন যে ‘জাতীয় নির্বাচন’ পূর্বেই আয়োজন করলে দেশ দ্রুত স্থিতিশীল হবে কিন্তু নির্বাচন যাতে প্রকৃত অর্থে ন্যায়সঙ্গত ও সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মধ্যে হয় সেটাই পণ করতে হবে; আর বর্তমানে সেই নিশ্চিততার প্রশ্নটি সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয়। কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনও নির্দিষ্ট সময়কালের মধ্যে নির্বাচনের কথা তুলে ধরেছে।

আওয়ামী লীগের প্রতি ন্যূনতম ন্যায্যতা হলো একটি রাজনৈতিক শক্তি যাকে জনগণ দীর্ঘ সময় ধরে দেখে এসেছে তাকে রাজনৈতিক মাঠ থেকে নিষিদ্ধ বা মুছে ফেলা যাবে না শুধুমাত্র ষড়যন্ত্রের ভিত্তিতে। জনগণের মনে যে আস্থা ও ঐতিহ্য গেঁথে আছে, সেটাকে অবহেলা করে কেউ চাপিয়ে দিলে তার প্রতিক্রিয়া আসে আর সেটাই বর্তমানে দেখা যাচ্ছে। জনগণ অবৈধ দাবি বা মিথ্যাচার সহজে মানবে না, মাঠে, মিডিয়াতে, বক্তৃতায়, জনসমক্ষে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে ‘বৈধ নির্বাচন’ কথাটি গ্রহণযোগ্য হবে না।

যারা ক্ষমতার নেশায়, হাজার কোটিয়ের স্বপ্নে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর বিচরণ করেছেন—তাদের কাজেই আজ শৃঙ্খলা বিঘ্নিত। প্রতিরক্ষা, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থায় যদি দলীয় ব্যক্তিবর্গের লোকবর্গ বসে যায়, তখন প্রতিষ্ঠানগুলো আর স্বাধীন থাকে না; তার প্রভাব চলে আসে জনগণের জীবন, অর্থনীতি ও আইন-শৃঙ্খলায়। সুতরাং, দেশের স্বার্থে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা কোনোকালেই স্থিতিশীলতা দিতে পারে না—বরং সেটাই অস্হিরতার মূল। এই বাস্তব অভিজ্ঞতাও সাম্প্রতিক সরকারি কার্যক্রম ও তার প্রতিক্রিয়াগুলোতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

প্রকাশ্য কথায় স্পষ্ট,,
১) অবৈধভাবে দখলকৃত ক্ষমতা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আইনগত ও সংstitutional প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হোক—যেখানে জাতীয় নির্বাচন হবে অবাধ, ন্যায়সংগত ও সকল মূল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
২) সরকার যদি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে চায়, তাদের করতে হবে স্বচ্ছতা, ক্ষমতার অপব্যবহার তদন্ত ও দ্রুত সাংবিধানিক ব্যবস্থায় ফেরত যাওয়া।
৩) আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হোক—এতে করে নির্বাচন যদি প্রকৃত অর্থেই গণতান্ত্রিক হয়, তা বিশ্ব মঞ্চেও গ্রহণযোগ্য হবে।

যারা ভেবেছেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা-খাতে পরিণত করে, অহেতুক সত্য বিকৃতি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করলে ফল তারা দেখতে পাবে তা সময়ই দেখাবে। আওয়ামী লীগ ছাড়া এই দেশে নির্বাচন হবে না এটা কেবল এ দলের দাবি নয়; এটি দেশের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্ন। জনগণের দাবী অবৈধ সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সরকারের ধারাবাহিকতা হলে দেশই বাঁচবে আর দেশের মানুষের কষ্টও ধীরে ধীরে লাঘব হবে।