নিউজ ডেস্ক :: ফটোগ্রাফার শহীদুল আলম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসে বিতর্কিত একটি চরিত্র হিসেবে পরিচিত। তার পরিবার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার মধ্যে যুক্ত ছিল। শহীদুল আলমের মা, কাজী আনোয়ারা মনসুর, মুক্তিযুদ্ধের সময় মেজর খালেদ মোশাররফের দুই কন্যাকে আটক করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের উদ্ধার করতে গেলে আনোয়ারা মনসুর পাকিস্তানি সেনাকে ফোন করার চেষ্টা করেছিলেন। তখন মুক্তিযোদ্ধারা ব্ল্যাঙ্ক ফায়ার করতে বাধ্য হন। এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বইয়ে।
শহীদুল আলমের মামা ছিলেন কুখ্যাত রাজাকার সবুর খান, যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগিতা করেছিলেন। ১৯৭১ সালের এই প্রেক্ষাপটে শহীদুল আলম নিজেও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দালাল আইনে গ্রেপ্তার হন এবং যাবজ্জীবন সাজা পান। পরে জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান।
সময়ের সঙ্গে শহীদুল আলম আরও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ২০১২ সালে তিনি ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের পক্ষে আন্তর্জাতিক আদালতের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেন। এছাড়া ফিল্মমেকার হিসেবে তিনি জিয়াউর রহমানের দুটি ভুয়া কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাদ দিয়ে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষণা কৃত নেতা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন।
শহীদুল আলমের জীবন ও কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে বিতর্কিত ও নিন্দনীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। তার পরিবার ও ব্যক্তিগত পদক্ষেপগুলো মুক্তিযুদ্ধের নৈতিক ও ঐতিহাসিক চেতনার বিপরীতে অবস্থান গ্রহণের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হয়।
সুমিত সাহা, 









