সচিব নিয়োগে কোটি টাকার হাট, জনপ্রশাসন সচিব পদের দাম ১০০ কোটি, অন্তর্বর্তী সরকারের নগ্ন লুটপাট

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের প্রশাসন আজ এক কলঙ্কজনক ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাপন সচিব নিয়োগকে ঘিরে ১০০ কোটি টাকার লেনদেনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা কেবল দুর্নীতির নয় এটি রাষ্ট্র বিক্রির নগ্ন প্রমাণ, রাষ্ট্রদ্রোহের সমতুল্য অপরাধ। জামায়াত ইসলাম আন্তর্জাতিক ফান্ড যোগান দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের মঞ্চ তৈরি করেছে, আর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলো মিলে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ভাগবাটোয়ারার খেলায় পরিণত করেছে।

নির্বাচনের আগে প্রশাসনকে কব্জায় নেওয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র এখন প্রকাশ্যে। অন্তত ৫-৬ জন সচিবের নাম নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। কোটি টাকার প্যাকেজ আর রাজনৈতিক গোষ্ঠীগত প্রভাবের জোরে প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রহসন সাজানো।

ইউনুস সরকারের সময় সচিব পদে নিয়োগ-পদোন্নতির বাজার আগেই খুলে গেছে। সৎ, যোগ্য বা পেশাদার হওয়া কোনো যোগ্যতা নয় যোগ্যতা একটাই টাকা। ২০ থেকে ৪০ কোটি টাকার বিনিময়ে সচিব বানানোর নজির ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত। আর এই বাণিজ্যে এনসিপি, বিএনপি, জামায়াত এমনকি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় পর্যন্ত জড়িত। সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং, তথ্যমন্ত্রী উপদেষ্টা মাহফুজ (যিনি জঙ্গি যোগাযোগের অভিযোগে কুখ্যাত), স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টাসহ ক্ষমতাবান সবাই এ লুটপাটে ভাগ নিচ্ছেন। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোকে যখন দুর্নীতির হাটে বিক্রি করা হয়, তখন তা কেবল লজ্জাজনক নয় জাতির জন্য আত্মঘাতী।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া যথার্থই বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসন পরিচালনায় শুরু থেকেই ব্যর্থ। এখন সচিব পদে টাকার বাণিজ্য করে তারা রাষ্ট্রের মেরুদণ্ডে শেষ আঘাত হানছে।

প্রশ্ন হলো জনগণের করের টাকায় গড়া রাষ্ট্রযন্ত্র কি দুর্নীতির দালালদের হাতে বিক্রি হবে? প্রশাসন কি টাকার দাসত্বে বন্দি থাকবে, নাকি সত্যিই একজন নিরপেক্ষ, সৎ ও পেশাদার আমলাকে নিয়োগ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ন্যূনতম সাহস দেখাবে?

স্পষ্টভাবে বলতে হবে যদি সচিব পদে এই ধরনের বেচাকেনা চলতেই থাকে, তবে এ সরকার আর কেবল ব্যর্থ নয়; সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবেই চিহ্নিত হবে। কারণ যারা প্রশাসনের শীর্ষ পদ বেচাকেনা করে, তারা দুর্নীতিবাজ নয়—তারা জাতির শত্রু, দেশের বিশ্বাসঘাতক।

বাংলাদেশের প্রশাসন কোনো দলের দালালি কিংবা টাকার বাণিজ্যে বিক্রি হওয়ার জন্য নয়। যদি প্রশাসনকে এই অন্ধকার ব্যবসা থেকে মুক্ত না করা যায়, তবে গণতন্ত্র অচল হবে, নির্বাচন অর্থহীন হবে এবং রাষ্ট্র একদিন ভেঙে পড়বে দুর্নীতির বোঝায়।

Tag :

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

Glorifying War Criminals in an Illegal Parliament During the Month of Independence: A Shameful Chapter in History and an Ultimate Act of National Betrayal

সচিব নিয়োগে কোটি টাকার হাট, জনপ্রশাসন সচিব পদের দাম ১০০ কোটি, অন্তর্বর্তী সরকারের নগ্ন লুটপাট

Update Time : 05:22:44 am, Saturday, 4 October 2025

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের প্রশাসন আজ এক কলঙ্কজনক ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাপন সচিব নিয়োগকে ঘিরে ১০০ কোটি টাকার লেনদেনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা কেবল দুর্নীতির নয় এটি রাষ্ট্র বিক্রির নগ্ন প্রমাণ, রাষ্ট্রদ্রোহের সমতুল্য অপরাধ। জামায়াত ইসলাম আন্তর্জাতিক ফান্ড যোগান দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের মঞ্চ তৈরি করেছে, আর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলো মিলে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ভাগবাটোয়ারার খেলায় পরিণত করেছে।

নির্বাচনের আগে প্রশাসনকে কব্জায় নেওয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র এখন প্রকাশ্যে। অন্তত ৫-৬ জন সচিবের নাম নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। কোটি টাকার প্যাকেজ আর রাজনৈতিক গোষ্ঠীগত প্রভাবের জোরে প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রহসন সাজানো।

ইউনুস সরকারের সময় সচিব পদে নিয়োগ-পদোন্নতির বাজার আগেই খুলে গেছে। সৎ, যোগ্য বা পেশাদার হওয়া কোনো যোগ্যতা নয় যোগ্যতা একটাই টাকা। ২০ থেকে ৪০ কোটি টাকার বিনিময়ে সচিব বানানোর নজির ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত। আর এই বাণিজ্যে এনসিপি, বিএনপি, জামায়াত এমনকি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় পর্যন্ত জড়িত। সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং, তথ্যমন্ত্রী উপদেষ্টা মাহফুজ (যিনি জঙ্গি যোগাযোগের অভিযোগে কুখ্যাত), স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টাসহ ক্ষমতাবান সবাই এ লুটপাটে ভাগ নিচ্ছেন। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোকে যখন দুর্নীতির হাটে বিক্রি করা হয়, তখন তা কেবল লজ্জাজনক নয় জাতির জন্য আত্মঘাতী।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া যথার্থই বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসন পরিচালনায় শুরু থেকেই ব্যর্থ। এখন সচিব পদে টাকার বাণিজ্য করে তারা রাষ্ট্রের মেরুদণ্ডে শেষ আঘাত হানছে।

প্রশ্ন হলো জনগণের করের টাকায় গড়া রাষ্ট্রযন্ত্র কি দুর্নীতির দালালদের হাতে বিক্রি হবে? প্রশাসন কি টাকার দাসত্বে বন্দি থাকবে, নাকি সত্যিই একজন নিরপেক্ষ, সৎ ও পেশাদার আমলাকে নিয়োগ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ন্যূনতম সাহস দেখাবে?

স্পষ্টভাবে বলতে হবে যদি সচিব পদে এই ধরনের বেচাকেনা চলতেই থাকে, তবে এ সরকার আর কেবল ব্যর্থ নয়; সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবেই চিহ্নিত হবে। কারণ যারা প্রশাসনের শীর্ষ পদ বেচাকেনা করে, তারা দুর্নীতিবাজ নয়—তারা জাতির শত্রু, দেশের বিশ্বাসঘাতক।

বাংলাদেশের প্রশাসন কোনো দলের দালালি কিংবা টাকার বাণিজ্যে বিক্রি হওয়ার জন্য নয়। যদি প্রশাসনকে এই অন্ধকার ব্যবসা থেকে মুক্ত না করা যায়, তবে গণতন্ত্র অচল হবে, নির্বাচন অর্থহীন হবে এবং রাষ্ট্র একদিন ভেঙে পড়বে দুর্নীতির বোঝায়।