নিউজ ডেস্ক ::ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো উস্কানিমূলক বক্তব্যই শেষ পর্যন্ত জামাতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা তাহেরের কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি আমেরিকা থেকে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন তিনি, কিন্তু ভারত সরকার তার ভিসা আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জামাতে ইসলামীর ভূমিকা বরাবরই বিতর্কিত। সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয় ড. ইউনুসের সঙ্গে তাহেরের সাম্প্রতিক বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে। জাতিসংঘের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ড. ইউনুসের সফরসঙ্গী হিসেবে তাহের আমেরিকায় যান। সেখানে জামাত–শিবির আয়োজিত এক সভায় তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য ৫০ লাখ সশস্ত্র যোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই বক্তব্য মুহূর্তেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয় এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে।
নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সেই ঘটনার কিছুদিন পরই তাহের ভারতে প্রবেশের জন্য আবেদন করেন, কিন্তু দিল্লি কর্তৃপক্ষ তার ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে তার পূর্ববর্তী উগ্র ভারতবিরোধী বক্তব্য ও পাকিস্তানঘেঁষা রাজনৈতিক অবস্থানকে “নিরাপত্তা ঝুঁকি” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
দলীয় ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন কমানোর চেষ্টা করছিল জামাতের একাংশ। তাহেরের দিল্লি সফরের উদ্দেশ্যও ছিল সেই সম্পর্কের বরফ গলানো। কিন্তু উগ্র বক্তব্যের দায়ে তার ভিসা প্রত্যাখ্যান এখন দলের ভেতরেই বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। অনেক নেতা মনে করছেন, এই ঘটনা জামাতের আন্তর্জাতিক ইমেজকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এখন কৌশলগত বাস্তবতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানপন্থী অবস্থানের কারণে জামাতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ভারতসহ আন্তর্জাতিক মহলে সবসময়ই সন্দেহের পর্যায়ে থেকেছে। তাহেরের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই অবিশ্বাসকে আরও জোরদার করেছে। ফলে তার ভিসা প্রত্যাখ্যান কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি ভারতের স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা যে, ঘৃণার রাজনীতি ও যুদ্ধোন্মাদ বক্তব্য দিয়ে এখন আর আঞ্চলিক কূটনীতিতে স্থান পাওয়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামাত নেতাদের বিদেশ সফর, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বিদেশি মঞ্চে তাদের বক্তব্য এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাহেরের এই ব্যর্থ সফর শুধু তার ব্যক্তিগত পরাজয় নয়—এটি জামাতে ইসলামীর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের জন্য এক বড় শিক্ষা। দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতায় ভারতের সঙ্গে বৈরিতা নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতাই এখন টিকে থাকার একমাত্র পথ। ভারতের সিদ্ধান্ত তাই নিছক ভিসা প্রত্যাখ্যান নয়; এটি উগ্রতা, ঘৃণা ও যুদ্ধবাজ রাজনীতির বিরুদ্ধে এক কূটনৈতিক প্রতীকী জবাব।
সৌমিত্র সাহা 









