নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি আজ এক গভীর নৈতিক সংকটে নিমজ্জিত। দলটির ভেতরে এমন এক বাণিজ্যিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আদর্শ, ত্যাগ বা কর্মীর মর্যাদা নয় ক্ষমতার সিঁড়ি মাপা হচ্ছে টাকার অঙ্কে।
দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ এই দুর্নীতিপূর্ণ সংস্কৃতির মূল স্থপতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই। তিনি লন্ডনে বসে দল চালাচ্ছেন এমন এক চক্রের মাধ্যমে, যারা প্রতিটি পদ, কমিটি ও মনোনয়নের দায়িত্বকে অর্থ আয়ের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে।
*পদ পেতে কোটি টাকার বাণিজ্য*
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর বিশেষত ঢাকা মহানগর ও কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে পদ বাণিজ্য এখন উন্মুক্ত রূপ নিয়েছে। সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে নেতাদের ৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে।
এই অর্থ ধাপে ধাপে দলের একাধিক দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে লন্ডনে পাঠানো হয়, এবং শেষ পর্যন্ত অনুমোদন আসে তারেক রহমানের কাছ থেকে।
ঢাকার বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতেও একই চিত্র। ওয়ার্ড পর্যায়ের সভাপতি ও সম্পাদক পদ এখন ২ থেকে ৫ কোটি টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে আদর্শিক রাজনীতি এখন পুরোপুরি বিলুপ্ত—টাকার জোরেই সিদ্ধান্ত হয় কে নেতা হবেন, আর কে বাদ পড়বেন।
* মনোনয়ন বাণিজ্য ক্ষমতার টিকিটের দাম ২০ থেকে ১০০ কোটি*
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে প্রার্থীদের ২০ কোটি থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হবে এমন অভিযোগ উঠেছে দলীয় পর্যায়ে। ধনী ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও প্রভাবশালীরা ইতিমধ্যেই গোপনে টাকা-পয়সার লেনদেন শুরু করেছেন।
যারা অর্থ দিতে পারছেন না, তারা কার্যত রাজনীতির বাইরে ছিটকে পড়ছেন।
এক জেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,তারেক রহমানের অনুমোদন না পেলে এখন কিছুই হয় না। পদ থেকে মনোনয়ন সবই টাকার খেলায় পরিণত হয়েছে।”
*চাঁদাবাজি, মাদক ও তদবির বাণিজ্যের উৎস*
এই বিপুল অর্থের যোগান আসছে বিভিন্ন অবৈধ উৎস থেকে। স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি নেতারা এখন চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তুলছেন। তাদের দাবি, উপর মহলে টাকা পাঠানোই তাদের টিকে থাকার একমাত্র উপায়।
ফলে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বিএনপি আজ একটি আর্থিক সিন্ডিকেটে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে অপরাধের অর্থই রাজনীতির জ্বালানি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিএনপি এখন এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে যেখানে নীতি ও আদর্শের কোনো মূল্য নেই। দলের নেতৃত্ব সম্পূর্ণরূপে পারিবারিক ও অর্থনির্ভর এক ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে।
এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দলটির প্রতি জনআস্থা একেবারে বিলীন হয়ে যাবে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
বিএনপি দলটি পরিণত হয়েছে চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য ও অর্থ-সিন্ডিকেটের আশ্রয়স্থলে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি যদি এই অর্থলোভী রাজনীতি থেকে সরে না আসে, তবে বিএনপি শুধু রাজনীতির মাঠেই নয় ইতিহাসের পাতাতেও নিজের অবস্থান হারাবে।
নিউজ ডেস্ক 









