নিউজ ডেস্ক :: সম্প্রতি সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে প্রাণদান করা বাংলাদেশের ছয় বীর সেনার কফিন দেশে ফেরানো হয়েছে। কিন্তু এই বীর সেনাদের প্রতি রাষ্ট্র যথাযথ মর্যাদা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের কফিনে জাতীয় পতাকা ছিল না; বরং রশি ও বস্তা দিয়ে সাধারণ কার্গোতে আনা হয়েছে। অন্যদিকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী নেতা ওসমান হাদীর কফিনে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। হাদীকে পতাকা দেওয়া নিয়ে আপত্তি নেই, তবে এই বৈষম্য রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতি প্রশ্ন উত্থাপন করছে।
বাংলাদেশের সেনারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশের সার্বভৌমত্ব, স্থিতিশীলতা এবং সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী হুমকি থেকে রক্ষা করতে। তারা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন। অথচ, সেই আত্মত্যাগের সম্মান রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রদর্শিত হয়নি। অন্যদিকে, একজন জঙ্গী গোষ্ঠীর নেতাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গে শ্রদ্ধা দেখানো হয়েছে, যার কর্মকাণ্ড দেশের জন্য বিপদসঙ্কেত ছিল।
এই বৈষম্য কেবল শোক প্রদর্শনের নয় এটি রাষ্ট্রের মর্যাদা, নীতি এবং নৈতিকতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। রাষ্ট্র যদি নিজের বীর সেনাদের যথাযথ মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সৈনিকদের আত্মত্যাগের মর্যাদা, নাগরিকদের বিশ্বাস এবং রাষ্ট্রীয় নীতি সবই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
রাষ্ট্রের করণীয় স্পষ্ট,
দেশের বীর সেনাদের প্রতি ন্যায্য সম্মান প্রদর্শন।
পতাকা, শোক এবং মর্যাদার ব্যবহার বৈষম্যমুক্ত ও সমানভাবে নিশ্চিত করা।
প্রোটোকল ও নীতিমালা পুনর্মূল্যায়ন করা যাতে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেও মর্যাদা হারানো না হয়।
সেনারা দেশের সুরক্ষা, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির রক্ষক। তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু আইন প্রয়োগ নয়, শ্রদ্ধা ও মর্যাদা প্রদর্শনও। আজকের এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে জাতীয় নীতি, মর্যাদা ও শোক প্রকাশের মধ্যে সমতা বজায় রাখা রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, নইলে জাতির বীররা হতাশা ও অবমূল্যায়নের শিকার হবেন।
শিরোনাম :
বীর সেনাদের মর্যাদার ঘাটতি, কফিনে পতাকা নেই, জঙ্গীর কফিনে আছে—রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের প্রশ্ন
-
সুবির, - Update Time : 01:52:12 pm, Saturday, 20 December 2025
- 559 Time View
Tag :
জনপ্রিয়










