অনলাইন ডেস্ক :: ডিসেম্বর ১৯–এর নৃশংস ঘটনা আমাদের সামনে এক ভয়াবহ সত্য উন্মোচন করেছে—যখন বিচার প্রক্রিয়া দুর্বল হয়, তখন উন্মত্ততা রাষ্ট্রের জায়গা দখল করে নেয়। ভিডিও প্রমাণে স্পষ্ট, ময়মনসিংহের ভালুকার ২৭ বছর বয়সী দীপু চন্দ্র দাসকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, পরে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়; এটি আইনশাসনের প্রকাশ্য অপমান।
পুলিশ হেফাজত মানে নাগরিকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই হেফাজত ভেঙে কাউকে তুলে নেওয়া হলে দায় শুধু হামলাকারীদের নয়—প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও জবাবদিহির ঘাটতিও সামনে আসে। ‘গুজব’ বা ‘জনরোষ’-এর অজুহাতে এমন অপরাধকে হালকা করা যায় না। কারণ বিচারবহির্ভূত সহিংসতা বৈধতা পেলে সমাজে অপরাধ দমে না, বরং বেড়ে যায়।
এই ঘটনার আরেকটি ভয়াবহ দিক হলো—সংখ্যালঘু পরিচয়ের কারণে টার্গেট হওয়ার আশঙ্কা। যদি রাষ্ট্র নিরপেক্ষভাবে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সংখ্যালঘুদের আস্থাহীনতা বাড়ে, সামাজিক সম্প্রীতি ভেঙে পড়ে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল শক্তি নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা—এখানে কোনো ছাড় নেই।
জনগণ আজ স্পষ্টভাবে কঠোর বিচার চায়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এই ক্ষত সারবে না। প্রয়োজন দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত, দায়ীদের—হামলাকারী থেকে শুরু করে দায়িত্বে অবহেলাকারী সবাইকে—আইনের আওতায় আনা। একই সঙ্গে পুলিশ হেফাজতের নিরাপত্তা প্রটোকল শক্তিশালী করা এবং গুজব প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
দীপু চন্দ্র দাসের মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়—বিচার আদালতে না হলে রাস্তায় নামে উন্মত্ততা। এখনই সময় নীরবতা ভাঙার, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার। কারণ বিচার প্রতিষ্ঠিত না হলে, নিরাপদ থাকবে না কেউই।
শিরোনাম :
বিচার নয়, মৌলবাদের উন্মত্ততা, দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের কঠোর বিচার চায় জনগণ
-
বিকাশ দেব, - Update Time : 04:08:52 pm, Sunday, 21 December 2025
- 79 Time View
Tag :
জনপ্রিয়










