২০ বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে জিন্নাহ উৎসব স্বাধীনতাবিরোধীদের নতুন বার্তা

নিউজ ডেস্ক :: ইতিহাসের সত্য একেবারেই স্পষ্ট—মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের জাতির পিতা, স্বাধীন বাংলাদেশের নন। স্বাধীন বাংলাদেশের একমাত্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই মৌলিক সত্য অস্বীকার করা মানেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, শহীদের আত্মত্যাগ এবং রাষ্ট্রের জন্মকথার সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা করা।
বাংলাদেশের মানুষ ভুলে যায়নি—বিগত বিএনপি–জামায়াত সরকারের আমলে কীভাবে জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকী জম্ম বার্ষিকী পালনের মতো ঘটনাগুলো ঘটেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর আবারও ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পাকিস্তানের জাতির পিতার জন্মদিন পালিত হওয়া শুধু বিস্ময়কর নয়, বরং গভীরভাবে উদ্বেগজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ।
এটি কোনো নিরীহ সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়। এটি একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। যে বার্তা জানিয়ে দেয়—স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনো সক্রিয়, এবং তাদের পাকিস্তানপ্রীতি এখনো অটুট। যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজও জিন্নাহকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরে ইতিহাসের চাকা উল্টো ঘোরানোর চেষ্টা করছে।
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে মূলত তিনটি লক্ষ্য স্পষ্ট হয়—স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দুর্বল করা এবং নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা। পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য যাদের রাজনীতির ভিত্তি, তারা আজও জিন্নাহকে “জাতির পিতা” মনে করে। আর তাতেই পরিষ্কার হয়ে যায়—তাদের অবস্থান বাংলাদেশের পক্ষে নয়, বরং পাকিস্তানের পক্ষে।
স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানের জাতির পিতার বন্দনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের প্রশ্ন নয়—এটি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় আত্মপরিচয়ের ওপর সরাসরি আঘাত।
আজ এই বাস্তবতায় জাতির সামনে প্রশ্ন একটাই—
আমরা কি ইতিহাসের সত্য রক্ষা করব, নাকি স্বাধীনতাবিরোধীদের নীরব প্রশ্রয় দেব?
উত্তরও একটাই—
হটাও পাকিস্তানি গোয়েন্দা ও তাদের দোসরদের প্রভাব—বাঁচাও দেশ।
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতি ঐক্যবদ্ধ।

Tag :

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

Glorifying War Criminals in an Illegal Parliament During the Month of Independence: A Shameful Chapter in History and an Ultimate Act of National Betrayal

২০ বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে জিন্নাহ উৎসব স্বাধীনতাবিরোধীদের নতুন বার্তা

Update Time : 07:59:17 pm, Monday, 22 December 2025

নিউজ ডেস্ক :: ইতিহাসের সত্য একেবারেই স্পষ্ট—মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের জাতির পিতা, স্বাধীন বাংলাদেশের নন। স্বাধীন বাংলাদেশের একমাত্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই মৌলিক সত্য অস্বীকার করা মানেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, শহীদের আত্মত্যাগ এবং রাষ্ট্রের জন্মকথার সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা করা।
বাংলাদেশের মানুষ ভুলে যায়নি—বিগত বিএনপি–জামায়াত সরকারের আমলে কীভাবে জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকী জম্ম বার্ষিকী পালনের মতো ঘটনাগুলো ঘটেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর আবারও ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পাকিস্তানের জাতির পিতার জন্মদিন পালিত হওয়া শুধু বিস্ময়কর নয়, বরং গভীরভাবে উদ্বেগজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ।
এটি কোনো নিরীহ সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়। এটি একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। যে বার্তা জানিয়ে দেয়—স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনো সক্রিয়, এবং তাদের পাকিস্তানপ্রীতি এখনো অটুট। যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজও জিন্নাহকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরে ইতিহাসের চাকা উল্টো ঘোরানোর চেষ্টা করছে।
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে মূলত তিনটি লক্ষ্য স্পষ্ট হয়—স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দুর্বল করা এবং নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা। পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য যাদের রাজনীতির ভিত্তি, তারা আজও জিন্নাহকে “জাতির পিতা” মনে করে। আর তাতেই পরিষ্কার হয়ে যায়—তাদের অবস্থান বাংলাদেশের পক্ষে নয়, বরং পাকিস্তানের পক্ষে।
স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানের জাতির পিতার বন্দনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের প্রশ্ন নয়—এটি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় আত্মপরিচয়ের ওপর সরাসরি আঘাত।
আজ এই বাস্তবতায় জাতির সামনে প্রশ্ন একটাই—
আমরা কি ইতিহাসের সত্য রক্ষা করব, নাকি স্বাধীনতাবিরোধীদের নীরব প্রশ্রয় দেব?
উত্তরও একটাই—
হটাও পাকিস্তানি গোয়েন্দা ও তাদের দোসরদের প্রভাব—বাঁচাও দেশ।
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতি ঐক্যবদ্ধ।