তারেক রহমানের জন্য আইন কি আলাদা লেখা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক :: এক সময়ের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী তারেক রহমানের ক্ষেত্রে এখন একের পর এক সুযোগ–সুবিধা দিয়ে আইন ভঙ্গের ঘটনা জনমনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সাধারণ নাগরিকের জন্য যে আইন কঠোর ও অমোঘ, তারেক রহমানের ক্ষেত্রে কি সেই আইন শিথিল হয়ে যায়? নাকি তিনি কার্যত আইনের ঊর্ধ্বে?
দেশে প্রবেশের মুহূর্ত থেকেই বিষয়টি চোখে পড়ছে। টোল নির্ধারিত স্থাপনায় টোল না দেওয়া, যা সাধারণ মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে দণ্ডনীয় অপরাধ—সেটি কীভাবে উপেক্ষিত থাকে? এরপর আসে আরও গুরুতর বিষয়। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নতুন করে ভোটার হওয়া আইনত নিষিদ্ধ, অথচ সেই তফসিল কার্যকর থাকার মধ্যেই তারেক রহমানের ভোটার হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার ওপর দিনটি ছিল শনিবার, সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি। তাহলে আইন মানা হলো কীভাবে, আর কার নির্দেশে?
এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয় বরং একটি ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরে—তারেক রহমানের জন্য কি আলাদা নিয়ম কার্যকর হচ্ছে? যদি তাই হয়, তবে সংবিধানে ঘোষিত “আইন সবার জন্য সমান”—এই নীতির অবস্থান কোথায়?
জনমনে আজ যে প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে, সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই—
দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েও তারেক রহমান কেন বারবার বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন?
আইন ভঙ্গের স্পষ্ট ঘটনাগুলো কেন উপেক্ষিত?
সাধারণ নাগরিক হলে যে অপরাধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হতো, সেখানে তারেক রহমানের ক্ষেত্রে নীরবতা কেন?
তবে কি তিনি সত্যিই আইনের ঊর্ধ্বে?
অপরাধ কখনো ছোট বা বড় হয় না—অপরাধ অপরাধই। ছোট অপরাধকে যদি ক্ষমতার জোরে বৈধ করে দেওয়া হয়, তবে বড় অপরাধ যে উৎসাহ পাবে, তা অনিবার্য। আইন ভাঙার এই বিশেষ সুবিধা কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আজ তাই জনমনের প্রশ্ন একটাই
আইন কি সত্যিই সবার জন্য সমান, নাকি তারেক রহমানের জন্য আলাদা আইন লেখা হচ্ছে?
এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না এলে, আইনশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও গভীর সংকটে পড়বে।

Tag :

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

Glorifying War Criminals in an Illegal Parliament During the Month of Independence: A Shameful Chapter in History and an Ultimate Act of National Betrayal

তারেক রহমানের জন্য আইন কি আলাদা লেখা হয়েছে

Update Time : 08:14:14 am, Friday, 26 December 2025

অনলাইন ডেস্ক :: এক সময়ের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী তারেক রহমানের ক্ষেত্রে এখন একের পর এক সুযোগ–সুবিধা দিয়ে আইন ভঙ্গের ঘটনা জনমনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সাধারণ নাগরিকের জন্য যে আইন কঠোর ও অমোঘ, তারেক রহমানের ক্ষেত্রে কি সেই আইন শিথিল হয়ে যায়? নাকি তিনি কার্যত আইনের ঊর্ধ্বে?
দেশে প্রবেশের মুহূর্ত থেকেই বিষয়টি চোখে পড়ছে। টোল নির্ধারিত স্থাপনায় টোল না দেওয়া, যা সাধারণ মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে দণ্ডনীয় অপরাধ—সেটি কীভাবে উপেক্ষিত থাকে? এরপর আসে আরও গুরুতর বিষয়। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নতুন করে ভোটার হওয়া আইনত নিষিদ্ধ, অথচ সেই তফসিল কার্যকর থাকার মধ্যেই তারেক রহমানের ভোটার হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার ওপর দিনটি ছিল শনিবার, সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি। তাহলে আইন মানা হলো কীভাবে, আর কার নির্দেশে?
এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয় বরং একটি ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরে—তারেক রহমানের জন্য কি আলাদা নিয়ম কার্যকর হচ্ছে? যদি তাই হয়, তবে সংবিধানে ঘোষিত “আইন সবার জন্য সমান”—এই নীতির অবস্থান কোথায়?
জনমনে আজ যে প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে, সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই—
দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েও তারেক রহমান কেন বারবার বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন?
আইন ভঙ্গের স্পষ্ট ঘটনাগুলো কেন উপেক্ষিত?
সাধারণ নাগরিক হলে যে অপরাধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হতো, সেখানে তারেক রহমানের ক্ষেত্রে নীরবতা কেন?
তবে কি তিনি সত্যিই আইনের ঊর্ধ্বে?
অপরাধ কখনো ছোট বা বড় হয় না—অপরাধ অপরাধই। ছোট অপরাধকে যদি ক্ষমতার জোরে বৈধ করে দেওয়া হয়, তবে বড় অপরাধ যে উৎসাহ পাবে, তা অনিবার্য। আইন ভাঙার এই বিশেষ সুবিধা কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আজ তাই জনমনের প্রশ্ন একটাই
আইন কি সত্যিই সবার জন্য সমান, নাকি তারেক রহমানের জন্য আলাদা আইন লেখা হচ্ছে?
এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না এলে, আইনশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও গভীর সংকটে পড়বে।