আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে, বড়লেখায় নৃশংস জোড়া হত্যাকাণ্ড

নিউজ ডেস্ক :: মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণবাগ উত্তর ইউনিয়নের কাটালতলী বিওসি কেছরিগুল গ্রামে নিজ বাড়িতে ঢুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে দুইজন মানুষকে। নিহত জামাল উদ্দিন ও আব্দুল কাইয়ুম সম্পর্কে পিতা ও চাচা—মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান কবিরের নিকট আত্মীয়। ঘটনাটি এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয়, এটি পরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার খুন। নিজ ঘরের ভেতরে ঢুকে দুইজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ায় বড় প্রশ্ন উঠেছে—এলাকায় আইনশৃঙ্খলা আদৌ কার্যকর আছে কি না। সাধারণ মানুষ যখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তখন মব কীভাবে প্রকাশ্যে খুন করে পার পেয়ে যায়, তার জবাব প্রশাসনকে দিতেই হবে।
বড়লেখা থানার ওসির ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যে পুলিশ স্কুলপড়ুয়া শিশুদের গ্রেপ্তারে তৎপর, তারা কেন ঘরের ভেতরে ঢুকে সংঘটিত এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে বা ঘটনার পরপরই অপরাধীদের ধরতে ব্যর্থ হলো? খুনিরা কারা, তাদের পরিচয় কী, তারা কোন গোষ্ঠী বা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত—এসব প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাই প্রমাণ করে, দেশে ধীরে ধীরে আইনের শাসনের জায়গা দখল করছে মবের শাসন। যেখানে বিচার আদালতে নয়, রাস্তায় ও ঘরের ভেতরে হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র যখন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে ব্যর্থ হয়, তখন সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়।
এই নৃশংস জোড়া হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা, ঘৃণা ও ধিক্কার জানানো হচ্ছে। অবিলম্বে খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে এই রক্তের দায় প্রশাসন ও রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

Tag :

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

Glorifying War Criminals in an Illegal Parliament During the Month of Independence: A Shameful Chapter in History and an Ultimate Act of National Betrayal

আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে, বড়লেখায় নৃশংস জোড়া হত্যাকাণ্ড

Update Time : 06:18:48 am, Sunday, 28 December 2025

নিউজ ডেস্ক :: মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণবাগ উত্তর ইউনিয়নের কাটালতলী বিওসি কেছরিগুল গ্রামে নিজ বাড়িতে ঢুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে দুইজন মানুষকে। নিহত জামাল উদ্দিন ও আব্দুল কাইয়ুম সম্পর্কে পিতা ও চাচা—মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান কবিরের নিকট আত্মীয়। ঘটনাটি এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয়, এটি পরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার খুন। নিজ ঘরের ভেতরে ঢুকে দুইজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ায় বড় প্রশ্ন উঠেছে—এলাকায় আইনশৃঙ্খলা আদৌ কার্যকর আছে কি না। সাধারণ মানুষ যখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তখন মব কীভাবে প্রকাশ্যে খুন করে পার পেয়ে যায়, তার জবাব প্রশাসনকে দিতেই হবে।
বড়লেখা থানার ওসির ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যে পুলিশ স্কুলপড়ুয়া শিশুদের গ্রেপ্তারে তৎপর, তারা কেন ঘরের ভেতরে ঢুকে সংঘটিত এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে বা ঘটনার পরপরই অপরাধীদের ধরতে ব্যর্থ হলো? খুনিরা কারা, তাদের পরিচয় কী, তারা কোন গোষ্ঠী বা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত—এসব প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাই প্রমাণ করে, দেশে ধীরে ধীরে আইনের শাসনের জায়গা দখল করছে মবের শাসন। যেখানে বিচার আদালতে নয়, রাস্তায় ও ঘরের ভেতরে হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র যখন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে ব্যর্থ হয়, তখন সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়।
এই নৃশংস জোড়া হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা, ঘৃণা ও ধিক্কার জানানো হচ্ছে। অবিলম্বে খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে এই রক্তের দায় প্রশাসন ও রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।