শীঘ্রই সামরিক–বেসামরিক আমলাতন্ত্রে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকার

নিউজ ডেস্ক :: রাষ্ট্র পরিচালনার ন্যূনতম কর্তৃত্বও ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকার—এমন অভিযোগ এখন প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্রের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সরকার কার্যত একটি অকার্যকর প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ক্ষমতায় থাকার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সরকার এখনো সিদ্ধান্তহীনতা, সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এর ফল হিসেবে দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—বন্দর ব্যবস্থাপনা ও পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি—চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
আমলাতন্ত্র চলছে নিজের গতিতে
সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেসামরিক আমলাতন্ত্র কার্যত সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করছে—এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে। গুরুত্বপূর্ণ নথি আটকে রাখা, সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে দেওয়া এবং নীরব প্রতিরোধের মাধ্যমে আমলাতন্ত্র নিজের মতো করে রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
অন্যদিকে সামরিক বাহিনীর কৌশলগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের ভূমিকা ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। নীতিগত সিদ্ধান্তে সরকারের প্রভাব সীমিত—এমন বার্তা স্পষ্টভাবে ছড়িয়ে পড়েছে প্রশাসনিক মহলে।
বন্দর নিয়ে অদক্ষতা ও দ্বিধা
চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ব্যবস্থাপনায় সরকারের অবস্থান চরমভাবে অস্পষ্ট। বিদেশি বিনিয়োগ, নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত স্বার্থ—সবকিছু মিলিয়ে যেখানে সুদৃঢ় নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেখানে ইউনুস সরকার দেখাচ্ছে সিদ্ধান্তহীনতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি।
ফলে সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলো থমকে আছে, আর আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছেও সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক চুক্তি—বাকরুদ্ধ সরকার
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক প্রশিক্ষণ বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে সরকার কোনো স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারেনি। কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চললেও সরকারের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও রাজনৈতিক ভীতির কারণে চুক্তির ভবিষ্যৎ কার্যত অন্ধকারে।
সমালোচকদের মতে, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া এমন সংবেদনশীল সামরিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহসও এই সরকারের নেই—আবার পুরোপুরি সরে আসার ঘোষণাও দিতে পারছে না।
বৈধতা সংকটই মূল সমস্যা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল সংকট প্রশাসনিক নয়, বরং বৈধতার। নির্বাচিত সরকারের অনুপস্থিতিতে এই প্রশাসনের ওপর কেউই পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছে না—না আমলাতন্ত্র, না সামরিক বাহিনী, না আন্তর্জাতিক অংশীদাররা।
একজন বিশ্লেষকের ভাষায়,
“এই সরকার সংস্কারের কথা বলে সময় পার করছে, কিন্তু বাস্তবে রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর তাদের কোনো দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ নেই। এটি এখন শুধু সময়ক্ষেপণের সরকারে পরিণত হয়েছে।”
সামনে অচলাবস্থার শঙ্কা
পর্যবেক্ষকদের মতে, দ্রুত নির্বাচনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা ও ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ না করলে অন্তর্বর্তী সরকার আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। সামরিক–বেসামরিক সমন্বয়হীনতা যদি চলতেই থাকে, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভয়াবহ অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।

Tag :

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

Glorifying War Criminals in an Illegal Parliament During the Month of Independence: A Shameful Chapter in History and an Ultimate Act of National Betrayal

শীঘ্রই সামরিক–বেসামরিক আমলাতন্ত্রে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকার

Update Time : 11:22:51 am, Sunday, 28 December 2025

নিউজ ডেস্ক :: রাষ্ট্র পরিচালনার ন্যূনতম কর্তৃত্বও ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকার—এমন অভিযোগ এখন প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্রের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সরকার কার্যত একটি অকার্যকর প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ক্ষমতায় থাকার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সরকার এখনো সিদ্ধান্তহীনতা, সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এর ফল হিসেবে দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—বন্দর ব্যবস্থাপনা ও পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি—চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
আমলাতন্ত্র চলছে নিজের গতিতে
সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেসামরিক আমলাতন্ত্র কার্যত সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করছে—এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে। গুরুত্বপূর্ণ নথি আটকে রাখা, সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে দেওয়া এবং নীরব প্রতিরোধের মাধ্যমে আমলাতন্ত্র নিজের মতো করে রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
অন্যদিকে সামরিক বাহিনীর কৌশলগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের ভূমিকা ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। নীতিগত সিদ্ধান্তে সরকারের প্রভাব সীমিত—এমন বার্তা স্পষ্টভাবে ছড়িয়ে পড়েছে প্রশাসনিক মহলে।
বন্দর নিয়ে অদক্ষতা ও দ্বিধা
চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ব্যবস্থাপনায় সরকারের অবস্থান চরমভাবে অস্পষ্ট। বিদেশি বিনিয়োগ, নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত স্বার্থ—সবকিছু মিলিয়ে যেখানে সুদৃঢ় নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেখানে ইউনুস সরকার দেখাচ্ছে সিদ্ধান্তহীনতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি।
ফলে সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলো থমকে আছে, আর আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছেও সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক চুক্তি—বাকরুদ্ধ সরকার
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক প্রশিক্ষণ বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে সরকার কোনো স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারেনি। কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চললেও সরকারের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও রাজনৈতিক ভীতির কারণে চুক্তির ভবিষ্যৎ কার্যত অন্ধকারে।
সমালোচকদের মতে, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া এমন সংবেদনশীল সামরিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহসও এই সরকারের নেই—আবার পুরোপুরি সরে আসার ঘোষণাও দিতে পারছে না।
বৈধতা সংকটই মূল সমস্যা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল সংকট প্রশাসনিক নয়, বরং বৈধতার। নির্বাচিত সরকারের অনুপস্থিতিতে এই প্রশাসনের ওপর কেউই পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছে না—না আমলাতন্ত্র, না সামরিক বাহিনী, না আন্তর্জাতিক অংশীদাররা।
একজন বিশ্লেষকের ভাষায়,
“এই সরকার সংস্কারের কথা বলে সময় পার করছে, কিন্তু বাস্তবে রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর তাদের কোনো দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ নেই। এটি এখন শুধু সময়ক্ষেপণের সরকারে পরিণত হয়েছে।”
সামনে অচলাবস্থার শঙ্কা
পর্যবেক্ষকদের মতে, দ্রুত নির্বাচনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা ও ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ না করলে অন্তর্বর্তী সরকার আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। সামরিক–বেসামরিক সমন্বয়হীনতা যদি চলতেই থাকে, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভয়াবহ অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।