ধর্মের নামে রাজনীতি বনাম ধর্মের জন্য রাষ্ট্র,খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার দুই বিপরীত বাস্তবতা

দিনপত্র ডেস্ক ::বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার হাতিয়ার। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কে ধর্মকে ব্যবহার করেছে, আর কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় অধিকার ও অবকাঠামোকে প্রতিষ্ঠা করেছে? এই প্রশ্নে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার শাসনামল দুই বিপরীত বাস্তবতা হাজির করে।
সমালোচকদের মতে, খালেদা জিয়ার পোশাক, মেকআপ ও ব্যক্তিগত উপস্থিতি কখনোই রক্ষণশীল বা পর্দানশীল নারীর আদর্শ আচরণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়নি। তিনি ছিলেন আধুনিক, ওয়েস্টার্ন প্রভাবিত ও আত্মবিশ্বাসী—এতে দোষ নেই। সমস্যা তৈরি হয়েছে তখনই, যখন তাঁর ক্ষমতার অংশীদার ছিল ধর্মীয় লেবাসধারী রাজনৈতিক গোষ্ঠী, যারা নৈতিকতার বড় বড় কথা বললেও নিজেদের রাজনীতিতে সেই নীতির প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। জনপর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, একদল রাজনৈতিক ‘মোল্লা’ পর্দা ও শালীনতার ভাষণ দিলেও ক্ষমতার রাজনীতিতে পর্দাহীন পশ্চিমা সংস্কৃতির নারীদের সঙ্গেই স্বচ্ছন্দে কাজ করেছে। এই দ্বিচারিতাই ধর্মীয় রাজনীতির আসল সংকট।
অন্যদিকে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত জীবনযাপন ছিল ভিন্ন এক বাস্তবতা। তাঁকে কাছ থেকে জানেন—এমন অনেকের মতে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ধার্মিক, ফরহেজগার এবং ধর্মীয় আচার-অনুশাসনে বিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু তিনি কখনো ধর্মকে রাজনৈতিক অভিনয়ের মুখোশ বানাননি। বরং তাঁর আমলেই রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন সবচেয়ে দৃশ্যমানভাবে এগিয়েছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ হয়েছে। ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক ভাতা চালু হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করতে আলাদা নীতিমালা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এগুলো কোনো স্লোগান নয়—এগুলো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও বাস্তব কাজ।
এই বাস্তবতায় ধর্মের মুখোশধারীদের মুখোশ খুলে গেছে। কারণ খালেদা জিয়ার আমলে যারা ক্ষমতার অংশীদার হয়েছিল, তারা ইসলাম ধর্মের জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা বা সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। বরং অভিযোগ আছে—ধর্মের নামে তারা সহনশীলতার বদলে উগ্রতা লালন করেছে, যার ফল হিসেবে জঙ্গিবাদের জন্ম হয়েছে।
এ কারণেই আজ বহু ধর্মীয় চিন্তাশীল আলেম ও সাধারণ মুসল্লি শেখ হাসিনার আমলের কাজকে ইসলামের কল্যাণের সঙ্গে তুলনা করে কৃতিত্ব দেন। কারণ ধর্মের প্রকৃত সেবা হয় রাষ্ট্রীয় ন্যায়, শিক্ষা, সহনশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তার মাধ্যমে—নয়তো স্লোগান দিয়ে নয়।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা ব্যক্তির পোশাক বা ব্যক্তিগত পছন্দের নয়। প্রশ্নটা হলো—কে ধর্মকে ক্ষমতার মই বানিয়েছে, আর কে ধর্মীয় অধিকারকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে দেখেছে।
এই পার্থক্য না বুঝলে আমরা ধর্মও হারাব, রাজনীতিও হারাব।
এটাই কঠিন সত্য।

Tag :

কমেন্ট করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

Glorifying War Criminals in an Illegal Parliament During the Month of Independence: A Shameful Chapter in History and an Ultimate Act of National Betrayal

ধর্মের নামে রাজনীতি বনাম ধর্মের জন্য রাষ্ট্র,খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার দুই বিপরীত বাস্তবতা

Update Time : 08:39:31 pm, Wednesday, 31 December 2025

দিনপত্র ডেস্ক ::বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার হাতিয়ার। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কে ধর্মকে ব্যবহার করেছে, আর কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় অধিকার ও অবকাঠামোকে প্রতিষ্ঠা করেছে? এই প্রশ্নে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার শাসনামল দুই বিপরীত বাস্তবতা হাজির করে।
সমালোচকদের মতে, খালেদা জিয়ার পোশাক, মেকআপ ও ব্যক্তিগত উপস্থিতি কখনোই রক্ষণশীল বা পর্দানশীল নারীর আদর্শ আচরণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়নি। তিনি ছিলেন আধুনিক, ওয়েস্টার্ন প্রভাবিত ও আত্মবিশ্বাসী—এতে দোষ নেই। সমস্যা তৈরি হয়েছে তখনই, যখন তাঁর ক্ষমতার অংশীদার ছিল ধর্মীয় লেবাসধারী রাজনৈতিক গোষ্ঠী, যারা নৈতিকতার বড় বড় কথা বললেও নিজেদের রাজনীতিতে সেই নীতির প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। জনপর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, একদল রাজনৈতিক ‘মোল্লা’ পর্দা ও শালীনতার ভাষণ দিলেও ক্ষমতার রাজনীতিতে পর্দাহীন পশ্চিমা সংস্কৃতির নারীদের সঙ্গেই স্বচ্ছন্দে কাজ করেছে। এই দ্বিচারিতাই ধর্মীয় রাজনীতির আসল সংকট।
অন্যদিকে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত জীবনযাপন ছিল ভিন্ন এক বাস্তবতা। তাঁকে কাছ থেকে জানেন—এমন অনেকের মতে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ধার্মিক, ফরহেজগার এবং ধর্মীয় আচার-অনুশাসনে বিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু তিনি কখনো ধর্মকে রাজনৈতিক অভিনয়ের মুখোশ বানাননি। বরং তাঁর আমলেই রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন সবচেয়ে দৃশ্যমানভাবে এগিয়েছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ হয়েছে। ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক ভাতা চালু হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করতে আলাদা নীতিমালা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এগুলো কোনো স্লোগান নয়—এগুলো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও বাস্তব কাজ।
এই বাস্তবতায় ধর্মের মুখোশধারীদের মুখোশ খুলে গেছে। কারণ খালেদা জিয়ার আমলে যারা ক্ষমতার অংশীদার হয়েছিল, তারা ইসলাম ধর্মের জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা বা সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। বরং অভিযোগ আছে—ধর্মের নামে তারা সহনশীলতার বদলে উগ্রতা লালন করেছে, যার ফল হিসেবে জঙ্গিবাদের জন্ম হয়েছে।
এ কারণেই আজ বহু ধর্মীয় চিন্তাশীল আলেম ও সাধারণ মুসল্লি শেখ হাসিনার আমলের কাজকে ইসলামের কল্যাণের সঙ্গে তুলনা করে কৃতিত্ব দেন। কারণ ধর্মের প্রকৃত সেবা হয় রাষ্ট্রীয় ন্যায়, শিক্ষা, সহনশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তার মাধ্যমে—নয়তো স্লোগান দিয়ে নয়।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা ব্যক্তির পোশাক বা ব্যক্তিগত পছন্দের নয়। প্রশ্নটা হলো—কে ধর্মকে ক্ষমতার মই বানিয়েছে, আর কে ধর্মীয় অধিকারকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে দেখেছে।
এই পার্থক্য না বুঝলে আমরা ধর্মও হারাব, রাজনীতিও হারাব।
এটাই কঠিন সত্য।